জাতীয় সংসদ ভবন (National Parliament House, Jatiya Sangsad Bhaban) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রধান ভবন। এটি রাজধানী ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত। প্রখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুইস কান এটির মূল স্থপতি।
সংসদ ভবন বাংলাদেশের স্থাপত্য শিল্পের একটি অনন্য নিদের্শন। সংসদ ভবনের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় যে, তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বা পূর্ব পাকিস্তান ( যা বর্তমানে বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তানের (যা বর্তমান পাকিস্তান) জন্য আইনসভার জন্য স্থপতি লুই আই কানের নকশায় জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণ শুরু হয় ১৯৬১ সালে। এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৮২ সালের ২৮শে জানুয়ারি।
| ধরন | সংসদ ভবন |
| অবস্থান | শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ |
| আয়তন | ২০০ একর (৮,০০,০০০ বর্গমিটার) |
| স্থাপত্য রীতি | আধুনিক, স্মৃতিস্তম্ভ |
| নির্মাণকাজ শুরু | ১৯৬১ সাল |
| নির্মাণকাজ শেষ | ১৯৮২ সাল |
| উদ্বোধন | ২৮শে জানুয়ারি, ১৯৮২ |
| নকশা ও নির্মাণ ব্যয় | ১২৯ কোটি টাকা |
| কাঠামো | কনক্রিটের, ইটের তৈরি |
| তলা | ৯তলা |
| স্থপতি | লুই কান, মাজহারুল ইসলাম (সহকারী স্থপতি) |
| ডিজাইন | হেনরি এন.উইলকটস |
| স্ট্রাকচারাল ডিজাইনার | হ্যারি এম পামবাম |
| ড্রোন উড়ানো যাবে | না |
আরও: নভোথিয়েটার
সংসদ ভবনের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় যে, তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বা পূর্ব পাকিস্তান ( যা বর্তমানে বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তানের (যা বর্তমান পাকিস্তান) জন্য আইনসভার জন্য স্থপতি লুই আই কানের নকশায় জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণ শুরু হয় ১৯৬১ সালে। এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৮২ সালের ২৮শে জানুয়ারি। সংসদ ভবনের মাঝখানে রয়েছে প্রধান হল। ৯তলা বিষিষ্ট এই সংসদে সংসদ সদস্যগণ পার্লামেন্টের কাজ করে থাকেন। ভবনের মাটির উপরের কাঠামোর উচ্চতা ৪৯.৬৮ মিটার।
আরও বিস্তারিত ভাবে বললে, ভবনের মূল কমপ্লেক্সটি ৯টি ভাগে বিভক্ত। কেন্দ্রীয় অষ্টভুজাকৃতির অংশটি উচ্চতায় ৪৭.২৪ মিটার এবং বাকি আটটি অংশ ৩৩.৫৩ মিটার উঁচু। সম্পূর্ণ সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে নির্মিত স্থাপনাগুলোর আয়তন মূল ভবন ৭৪,৪৫৯.২০ বর্গমিটার, দক্ষিণ প্লাজা ২০,৭১৭.৩৮ বর্গমিটার এবং উত্তর প্লাজা ৬,০৩৮.৭০ বর্গমিটার। সংসদ ভবন কৃত্রিম লেক পরিবেষ্টিত দেখলে মনে হয় পানির উপরে ভেসে থাকা একটি ভবন। ভবনের ঠিক উত্তর দিকে আছে সবুজ ঘাসের বাগান ও ইউক্যালিপটাস গাছে শোভিত প্রেসিডেন্সিয়াল স্কয়ার। সংসদের উত্তর দিকে লেক রোড, পূর্ব দিকে রোকেয়া সরণী, দক্ষিণ দিকে মানিক মিয়া এভিনিউ এবং পশ্চিম দিকে মিরপুর সড়ক রয়েছে।
পরিদর্শনের নিয়মাবলী
আপনি বা অন্য যে কেউ চাইলে বাহির থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারবেন। ভিতরে চাইলেই যে কেউ প্রবেশ করতে পারে না। এটি একটি সংরক্ষিত এলাকা। তবে, রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে বিনামূল্যে জাতীয় সংসদ ভবনের ভিতরের অংশ পরিদর্শন করা যায়।
ভিতরে প্রবেশের জন্য যে কোন বাংলাদেশী নাগরিককে বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের সচিবের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। এছাড়া বিদেশী নাগরিকদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফি প্রদান সাপেক্ষ্যে সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ দেয়া হয়। বিদেশী নাগরিকদের ভিতরে প্রবেশের জন্য ফি এর পাশাপাশি নির্দিষ্ট ফরম পূরণ এবং পাসপোর্ট ও ভিসার ফটোকপি জমা দিতে হয়ে থাকে।
প্রবেশের অনুমতি নিতে ভিসিটর গাইডলাইন ফলো করুন: https://www.parliament.gov.bd/contact/visitor-pass-form
কিভাবে যাবেন
ঢাকার বাহির থেকে সংসদ ভবনে আসার জন্য প্রথমে আপনাকে ঢাকা আসতে হবে। এরপর ঢাকার যেকোন স্থান থেকে CNG, বাস, প্রাইভেটকার কিংবা মোটর সাইকেলে করে জাতীয় সংসদ ভবন দেখতে আসতে পারেন। এখানের সম্পূর্ণ এলাকা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন।
আশেপাশের আরও দর্শনীয় স্থান
- আলাদিন পার্ক
- বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর
- ছবির হাট
- সদরঘাট
- হাতিরঝিল
- তামান্না ওয়ার্ল্ড ফ্যামিলি পার্ক
- জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর
- আহসান মঞ্জিল
- বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ
- লালবাগ কেল্লা
ফেসবুক: GoArif
