রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততার মাঝে এমন একটি জায়গা রয়েছে যেখানে আপনি মহাকাশের গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে জানতে পারবেন, বিজ্ঞানের রহস্যময় জগতে হারিয়ে যেতে পারবেন এবং একই সাথে পাবেন অসাধারণ বিনোদনের স্বাদ। জ্বি, আমি কথা বলছি ঢাকার নভোথিয়েটারের (Novotheatre) কথা, যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার নামে পরিচিত এবং পূর্বে এই নভোথিয়েটারটি ভাষানী নভোথিয়েটার নামে পরিচিত ছিল।
বাংলাদেশের একমাত্র প্ল্যানেটেরিয়াম হিসেবে এই নভোথিয়েটার শুধু একটি বিনোদন কেন্দ্রই নয়, বরং এটি আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
কী কী দেখবেন
নভোথিয়েটার শুধুমাত্র একটি প্ল্যানেটেরিয়াম নয়, এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এক বিশাল কেন্দ্র। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় সুবিধা।
প্ল্যানেটেরিয়াম বা স্পেস থিয়েটার
থিয়েটারের প্রধান আকর্ষণ হলো এর প্ল্যানেটেরিয়াম। ২৭৫ আসন বিশিষ্ট এই স্পেস থিয়েটারে আপনি বসে থাকবেন বিশেষভাবে ডিজাইন করা আসনে, যেখান থেকে উপরের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন বিশাল গম্বুজাকৃতির পর্দা। এই পর্দায় অত্যাধুনিক প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয় কৃত্রিম আকাশ, যেখানে দেখা যায় শীতল নীল আকাশ, পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র এবং মহাকাশের অসীম বিস্তার।
প্ল্যানেটেরিয়ামে দুইটি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রথমটি হলো “জার্নি টু ইনফিনিটি”, যা প্রায় ৪০ মিনিটের এবং মহাকাশ, সূর্য ও বিভিন্ন গ্রহ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়। দ্বিতীয় চলচ্চিত্রটি হলো “এই আমাদের বাংলাদেশ”, যেখানে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, প্রকৃতি এবং গ্রামীণ জীবন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এই ত্রিমাত্রিক পরিবেশে মনে হবে আপনি সত্যিই মহাকাশে ভ্রমণ করছেন। তারাদের মিটমিটে আলো, গ্রহদের ঘূর্ণন এবং উল্কাপাতের দৃশ্য এতটাই বাস্তবসম্মত যে আপনি নিজেকে মহাশূন্যের একজন অভিযাত্রী হিসেবে অনুভব করবেন।
আরও: ছবির হাট
5D মুভি থিয়েটার
নভোথিয়েটারের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ হলো 5D মুভি থিয়েটার। ১২০ ডিগ্রি কোণের বিশাল পর্দায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় বর্ণিল আলোকচ্ছটা, অ্যাস্ট্রোভিশন ছবি এবং স্কাইক্যান ভিডিও। 5D মানে শুধু দেখা নয়, আপনি অনুভব করবেন ছবির প্রতিটি মুহূর্ত।
আসনগুলো নড়াচড়া করে, বাতাস প্রবাহিত হয়, জলের ছিটা পড়ে এবং বিভিন্ন গন্ধও অনুভব করতে পারবেন। এই সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং মজাদার।
রাইড সিমুলেটর
৩০ আসন বিশিষ্ট রাইড সিমুলেটর নভোথিয়েটারের অন্যতম জনপ্রিয় আকর্ষণ। এই সিমুলেটরে চড়ে আপনি অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন রেসিং কারে চড়ার, অ্যাক্রোবেটিক এ্যারোপ্লেনে উড়ার, স্পেস ক্র্যাফটে মহাকাশ ভ্রমণের, প্রাচীন পিরামিডের রোলার কোস্টারে চড়ার এবং মনোরেলে ভ্রমণের।
রাইড সিমুলেটর উল্লম্ব এবং অনুভূমিকভাবে প্রায় ৩০ ডিগ্রি কোণে নড়াচড়া করে, যা আপনাকে দেয় এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। প্রতিটি রাইড প্রায় ৫ মিনিটের এবং টিকেটের মূল্য মাত্র ২০ টাকা। এটি বিশেষভাবে শিশু এবং তরুণদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
5D ইন্টারেক্টিভ এডুটেইনমেন্ট সিমুলেটর
এটি একটি ইন্টারেক্টিভ সিমুলেটর যেখানে দর্শকরা শুধু দেখেই ক্ষান্ত হন না, বরং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এখানে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক গেম এবং ইন্টারেক্টিভ প্রোগ্রাম রয়েছে যা বিজ্ঞান শিক্ষাকে মজাদার করে তোলে।
আরও: হাতিরঝিল
ডিজিটাল ও সায়েন্টিফিক এক্সিবিটস গ্যালারি
নভোথিয়েটারের একটি বিশেষ অংশ হলো বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনী গ্যালারি। এখানে রয়েছে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের প্রতিকৃতি, তাদের জীবনী এবং তাদের আবিষ্কার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। আইজ্যাক নিউটন, গ্যালিলিও গ্যালিলি, আলবার্ট আইনস্টাইন, স্টিফেন হকিং সহ আরও অনেক বিজ্ঞানীর সম্পর্কে জানতে পারবেন।
এছাড়াও রয়েছে গ্রহ এবং সৌরজগতের বিভিন্ন প্রতিরূপ, যেগুলো হাতে স্পর্শ করে এবং কাছ থেকে দেখে বোঝা যায় কীভাবে সৌরজগত কাজ করে। শিশুদের জন্য এটি বিজ্ঞান শেখার এক অনন্য মাধ্যম।
অন্যান্য সুবিধা
নভোথিয়েটারে রয়েছে ১৫০ আসনের একটি আধুনিক মিলনায়তন এবং ৫০ আসনযুক্ত কনফারেন্স রুম, যেখানে বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক সেমিনার, কর্মশালা এবং সম্মেলন আয়োজন করা হয়। ভূগর্ভস্থ কার পার্কিং সুবিধা রয়েছে যা দর্শকদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক।
প্রদর্শনীর সময়সূচী
নভোথিয়েটারে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সময়সূচী জানা থাকলে আপনি আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা সহজে করতে পারবেন।
শনি থেকে বৃহস্পতিবার
শনি, রবি, সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার প্রদর্শনীর সময় হলো:
- সকাল ১০টা ৩০ মিনিট
- দুপুর ১২টা
- বেলা ২টা
- বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট
- বিকেল ৫টা
শুক্রবার
শুক্রবারের প্রদর্শনীর সময় কিছুটা ভিন্ন:
- সকাল ১০টা
- সকাল ১১টা ৩০ মিনিট
- দুপুর ২টা ৩০ মিনিট
- বিকেল ৪টা
- বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট
বন্ধের দিন
প্রতি সপ্তাহের বুধবার নভোথিয়েটার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। তাই বুধবার যাওয়ার পরিকল্পনা করবেন না।
আরও: তামান্না ওয়ার্ল্ড ফ্যামিলি পার্ক
বিশেষ নোট
গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে অর্থাৎ মার্চ থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত সন্ধ্যায় একটি অতিরিক্ত প্রদর্শনী থাকে। শীতকালে সন্ধ্যার প্রদর্শনী বন্ধ থাকে কারণ সূর্য তাড়াতাড়ি অস্ত যায়।
প্রতিটি প্রদর্শনী প্রায় ৩০ মিনিট থেকে ৪০ মিনিট স্থায়ী হয়। টিকিট প্রতিটি শো শুরুর দুই ঘণ্টা আগে থেকে কাউন্টারে বিক্রি শুরু হয়। সুতরাং একটু আগে গিয়ে টিকিট কেটে নেওয়াই ভালো, বিশেষ করে সপ্তাহান্তে এবং সরকারি ছুটির দিনে যখন ভিড় বেশি থাকে।
টিকেটের মূল্য
নভোথিয়েটারের টিকেটের মূল্য বেশ সাশ্রয়ী, যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।
- প্ল্যানেটেরিয়াম প্রদর্শনী: প্ল্যানেটেরিয়ামে প্রবেশের জন্য টিকেটের মূল্য ১০০ টাকা। তবে ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কোনো টিকিটের প্রয়োজন নেই।
- 5D মুভি থিয়েটার: 5D মুভি থিয়েটারের টিকেটের মূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা।
- 5D ইন্টারেক্টিভ এডুটেইনমেন্ট সিমুলেটর: এই সিমুলেটরের টিকেটের মূল্যও জনপ্রতি ৫০ টাকা।
- ডিজিটাল ও সায়েন্টিফিক এক্সিবিটস গ্যালারি: বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনী গ্যালারি দেখার জন্য প্রতি টিকেটের মূল্য ১০০ টাকা।
- রাইড সিমুলেটর: রাইড সিমুলেটরে চড়ার জন্য জনপ্রতি টিকেটের মূল্য মাত্র ২০ টাকা এবং প্রতিটি রাইড প্রায় ৫ মিনিটের।
অনলাইন টিকেট কেনার সুবিধা
টেলিটক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নভোথিয়েটার যাওয়ার তিন দিন পূর্বে অগ্রিম ই-টিকেট ক্রয় করা যায়। এতে লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
আরও: জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর
কীভাবে যাবেন
ঢাকার বিজয় সরণীতে অবস্থিত হওয়ায় নভোথিয়েটার খুব সহজেই যাওয়া যায়। রাজধানীর যেকোনো প্রান্ত থেকে যাতায়াতের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে।
- বাসে যাওয়া: ঢাকার প্রায় সব জায়গা থেকে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার বা তেজগাঁও গামী বাস পাওয়া যায়। বিজয় সরণীতে নেমে নভোথিয়েটার খুঁজে পাওয়া সহজ। বাসের ভাড়া এলাকাভেদে ২০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে।
- সিএনজি বা অটোরিকশা: সিএনজি অটোরিকশায় করে সরাসরি নভোথিয়েটার যাওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক। ঢাকার যেকোনো জায়গা থেকে মিটার অনুযায়ী ভাড়া দিয়ে যেতে পারবেন। রিকশায়ও যাওয়া যায় তবে দূরত্ব বেশি হলে সময় বেশি লাগবে।
- উবার বা পাঠাও: আজকাল উবার বা পাঠাওয়ের মতো রাইড শেয়ারিং সার্ভিস ব্যবহার করাটা সবচেয়ে সুবিধাজনক। মোবাইল অ্যাপ থেকে বুক করে সরাসরি নভোথিয়েটারের সামনে নামতে পারবেন।
- নিজস্ব গাড়ি: নিজস্ব গাড়িতে গেলে নভোথিয়েটারে পার্কিংয়ের সুবিধা রয়েছে। তেজগাঁও বিজয় সরণী দিয়ে সহজেই পৌঁছানো যায়।
- ফার্মগেট বা জিয়া উদ্যান থেকে: যদি ফার্মগেট বা জিয়া উদ্যানে নামেন, তাহলে মিনিট পাঁচেক পায়ে হেঁটেই নভোথিয়েটারে পৌঁছে যাবেন। বিজয় সরণীর পথচারীরা সহজেই দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।
আরও: আহসান মঞ্জিল
ঠিকানা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার বিজয় সরণী, তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫
ফোন: +৮৮০২৫৮৮৮৫২৩৯৫, ৫৮৮৮৫২৩৯৬
ইমেইল: [email protected]
ওয়েবসাইট: https://novotheatre.gov.bd/
যাওয়ার সেরা সময়
নভোথিয়েটার সারা বছরই খোলা থাকে, তবে কিছু সময়ে যাওয়া বিশেষভাবে ভালো। শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) নভোথিয়েটার ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক সময়। আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং ঘোরাফেরা করতে ভালো লাগে।
আরও: লালবাগ কেল্লা
আশেপাশের আরও দর্শনীয় স্থান সমূহ
নভোথিয়েটার দেখার পর যদি সময় থাকে, তাহলে আশেপাশের আরও কিছু জায়গা ঘুরে আসতে পারেন।
- বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর: নভোথিয়েটারের পাশেই অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর। এখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং সামরিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন। বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র, ট্যাংক, বিমান এবং যুদ্ধের নিদর্শন দেখা যায়।
- বিমান বাহিনী জাদুঘর: তেজগাঁও বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত বিমান বাহিনী জাদুঘরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাস এবং বিভিন্ন যুদ্ধবিমান দেখার সুযোগ রয়েছে।
- জাতীয় সংসদ ভবন: বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের ডিজাইন করা জাতীয় সংসদ ভবন দেখতে যেতে পারেন। স্থাপত্যকলার এক অপূর্ব নিদর্শন এটি।
- চন্দ্রিমা উদ্যান: সংসদ ভবনের সামনে অবস্থিত চন্দ্রিমা উদ্যান একটি সুন্দর পার্ক যেখানে পরিবার নিয়ে সময় কাটানো যায়। ছোট্ট লেকে বোটিং করার সুবিধাও রয়েছে।
কোথায় খাবেন
নভোথিয়েটারের ভেতরে কোনো ক্যাফেটেরিয়া বা খাবারের দোকান নেই। তবে এর আশেপাশে অনেক রেস্তোরাঁ এবং খাবারের দোকান রয়েছে।
বিজয় সরণী এবং ফার্মগেটে অনেক ভালো মানের রেস্তোরাঁ আছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া যায়। কেএফসি, পিৎজা হাট, চাইনিজ রেস্তোরাঁ সহ নানা ধরনের খাবারের দোকান আছে।
স্থানীয় ছোট রেস্তোরাঁতে সাশ্রয়ী দামে ভাত, মাছ, মাংস, ডাল এবং অন্যান্য বাংলাদেশি খাবার পাওয়া যায়। ফাস্ট ফুডের দোকানেও বার্গার, স্যান্ডউইচ, পাস্তা ইত্যাদি মিলবে।
প্রয়োজনীয় টিপস
নভোথিয়েটার ভ্রমণকে আরও মসৃণ এবং উপভোগ্য করতে কিছু টিপস মেনে চলুন।
- ক্যামেরা বা মোবাইল ফোন (ছবি তোলার জন্য, তবে শো চলার সময় ফটোগ্রাফি নিষিদ্ধ) নিতে পারেন।
- পানির বোতল নিতে পারেন।
- শিশুদের জন্য জ্যাকেট বা শাল (থিয়েটারের ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত থাকে)।
- শো চলার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না।
- খাবার নিয়ে ভেতরে ঢুকবেন না।
- শব্দ করে কথা বলবেন না যা অন্যদের বিরক্ত করতে পারে।
- থিয়েটারের আসন বা অন্য কোনো সরঞ্জামের ক্ষতি করবেন না।
আরও: টাকা জাদুঘর
নভোথিয়েটার নিয়ে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
নভোথিয়েটার কী?
নভোথিয়েটার হলো একটি প্ল্যানেটেরিয়াম বা কৃত্রিম নভোমন্ডল যেখানে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে গম্বুজাকৃতির পর্দায় মহাকাশ, গ্রহ-নক্ষত্র এবং সৌরজগতের বাস্তবসম্মত দৃশ্য প্রদর্শন করা হয়।
নভোথিয়েটার ঢাকার টিকিট মূল্য কত?
নভোথিয়েটার ঢাকার টিকিটের মূল্য অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং বিভিন্ন সুবিধার জন্য আলাদা। প্ল্যানেটেরিয়াম প্রদর্শনীর টিকিট মূল্য ১০০ টাকা, তবে ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কোনো টিকিট লাগে না। 5D মুভি থিয়েটারের টিকিট ৫০ টাকা, 5D ইন্টারেক্টিভ এডুটেইনমেন্ট সিমুলেটরের টিকিট ৫০ টাকা, ডিজিটাল ও সায়েন্টিফিক এক্সিবিটস গ্যালারির টিকিট ১০০ টাকা এবং রাইড সিমুলেটরের টিকিট মাত্র ২০ টাকা। টেলিটক মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে তিন দিন আগে থেকে অনলাইনে ই-টিকেট কেনা যায়, যা লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা এড়াতে সাহায্য করে।
নভোথিয়েটার ঢাকা কোথায় অবস্থিত?
নভোথিয়েটার ঢাকার তেজগাঁও এলাকার বিজয় সরণীতে অবস্থিত। সম্পূর্ণ ঠিকানা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, বিজয় সরণী, তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
নভোথিয়েটার বন্ধ কবে?
নভোথিয়েটার প্রতি সপ্তাহের বুধবার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এই দিন কোনো প্রদর্শনী বা অন্য কোনো কার্যক্রম হয় না। তাই বুধবার যাওয়ার পরিকল্পনা এড়িয়ে চলুন। বাকি সব দিন অর্থাৎ শনি, রবি, সোম, মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শুক্রবার নভোথিয়েটার খোলা থাকে এবং নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুযায়ী প্রদর্শনী হয়।
নভোথিয়েটারের স্থপতি কে?
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারের স্থপতি হলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত স্থপতি আলী ইমাম।
বন্ধের দিন ভুলে চলে এসেছি, এখন কী করব?
যদি বুধবার ভুলে নভোথিয়েটারে চলে আসেন এবং দেখেন বন্ধ, তাহলে হতাশ না হয়ে আশেপাশের অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে আসতে পারেন।
ফেসবুক: GoArif
