বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ (ইংরেজি: Baitul Mukarram National Mosque; আরবি: بيت المكرَّم الوطني مسجد) বাংলাদেশের বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ ঢাকার প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তানের খুব কাছে পল্টন এলাকায় অবস্থিত। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত এটিই একমাত্র বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ।
১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি মসজিদ টি প্রতিষ্ঠিত হলেও এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় ১৯৬৮ সালে। বায়তুল মোকারম নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন বাওয়ানি জুট মিলসের তৎকালীন মালিক বিশিষ্ট শিল্পপতি লতিফ বাওয়ানি ও তাঁর ভাতিজা ইয়াহিয়া বাওয়ানি।
| ভ্রমণ স্থান | বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ |
| ধরন | মসজিদ, ইসলামিক স্থাপত্য |
| অবস্থান | পল্টন, ঢাকা, বাংলাদেশ |
| প্রতিষ্ঠিত | ১৯৬০ সাল |
| নির্মাতা | টি আব্দুল হুসেন থারিয়ানি |
| আয়তন | ২৬৯৪.১৯ বর্গ মিটার |
| উচ্চতা (সর্বোচ্চ) | ৩০.১৮ মিটার |
| তলা | ৮টি |
| ধারণক্ষমতা | ৪০,০০০ |
| মালিকানা | সরকারি |
ইতিহাস ও স্থাপত্যশৈলী
বায়তুল মোকাররমের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় যে, বাংলাদেশের ঢাকায় অনেক ধারণক্ষমতাসহ একটি বৃহত্তর মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন আব্দুল লতিফ ইব্রাহিম বাওয়ানি। এরপর ১৯৫৯ সালে বায়তুল মুকাররম মসজিদ সোসাইটি গঠনের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
নতুন ঢাকা এবং পুরান ঢাকার মিলনস্থলে মসজিদটির জন্য প্রায় ৮.৩০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। এই স্থান টি নগরীর প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র থেকেও ছিল নিকটবর্তী। যখন মসজিদ নির্মানের প্ল্যান করা হয় তখন মসজিদের অবস্থানে একটি বড় পুকুর ছিল। যেটি সবার কাছে পল্টন পুকুর নামে পরিচিত ছিল। মসজিদ নির্মাণের জন্য পুকুর ভরাট করে ১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তান রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান মসজিদের কাজের উদ্ভোধন করে ছিলেন।
মসজিদের নকশার জন্য সিন্ধুর বিশিষ্ট স্থপতি আব্দুল হুসেন থারিয়ানিকে নিযুক্ত করা হয়। নকশার মধ্যে দোকান, অফিস, গ্রন্থাগার ও গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মসজিদটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবার পর ১৯৬৩ সালের ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার প্রথমবারের জন্য এখানে নামাজ পড়া হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ ৮তলা বিশিষ্ট। ২য় তলা থেকে ৬তলা পর্যন্ত প্রতি তলায় নামাজ আদায় করা হয়। বর্তমানে এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদে প্রবেশের জন্য উত্তর, দক্ষিণ এবং পূর্ব দিকে পৃথক পৃথক প্রবেশ পথ রয়েছে।
মসজিটিতে মুগল স্থাপত্যশৈলীর ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি বেশ কিছু আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শনও লক্ষ্য করা যায়। মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবাঘরের অনুরূপে তৈরিকৃত বায়তুল মোকাররমের বৃহৎ ঘনক্ষেত্রটি একে বিশেষ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করে রেখেছে।
আরও: নভোথিয়েটার
কীভাবে যাবেন
আপনি রাজধানী ঢাকার যেকোন জায়গা থেকে বাসে চড়ে পল্টন, গুলিস্তান কিংবা মতিঝিল এসে পায়ে হেঁটে বায়তুল মোকাররম মসজিদে পৌঁছাতে পারবেন।
এছাড়া ঢাকার বাহির থেকে আসতে চাইলে প্রথমে আপনাকে গুলিস্তান কিংবা সায়েদাবাদ আসতে হবে। তারপর রিক্সায় চড়ে চলে আসতে পারেন এখানে।
কোথায় খাবেন
এখানে খাওয়ার জন্য অনেক রেস্টুরেন্ট এবং হোটেল রয়েছে। যে কোন রেস্টুরেন্ট কিংবা হোটেলে খেয়ে নিতে পারবেন। ঢাকা জেলা বাকরখানি ও বিরিয়ানির জন্য বিখ্যাত। সময় পেলে পুরান ঢাকা থেকেও খেয়ে আসতে পারেন।
আরও: বাংলাদেশের ৬৪ জেলার বিখ্যাত খাবারের তালিকা
বায়তুল মোকাররম নিয়ে ভ্রমণ জিজ্ঞাসা
বায়তুল মোকাররম মসজিদ ঢাকার কোথায় অবস্থিত?
ঢাকার প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তানের খুব কাছে পল্টন এলাকায় অবস্থিত।
বায়তুল মোকাররম মসজিদের স্থপতি কে?
সিন্ধুর বিশিষ্ট স্থপতি আব্দুল হুসেন থারিয়ানি।
বায়তুল মোকাররমের প্রথম খতিবের নাম কি?
মুফতী সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ আমীমুল ইহসান বারকাতী।
বায়তুল মোকাররম মসজিদ কত সালে সালাত আদায় শুরু হয়?
১৯৬৩ সালের ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রথম জুমআর নামাজ আদায় করা হয়।
ফেসবুক: GoArif
