জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (Jahangirnagar University), বাংলাদেশের ঢাকা জেলার সাভার উপজেলায় ১৯৭০ সালে স্থাপন করা হয়েছে৷ এখানে অতিথি পাখি আর প্রাকৃতিক সবুজের সৌন্দর্যে ভরপুর পুরো ক্যাম্পাস। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ একর জায়গা জুড়ে আছে প্রজাপতি গার্ডেন যা জীব বৈচিত্রে অন্যোন্য উদাহরণ৷ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আয়তন প্রায় ৬৯৭.৫৬ একর এবং এটি বাংলাদেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত।
| অবস্থান | সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ |
| ধরন | পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় |
| স্থাপিত | ১৯৭০ সাল |
| কার্যক্রম শুরু | ১৯৭২ সাল |
| ইনস্টিটিউট সংখ্যা | ৪ টি |
| আয়তন | ৬৯৭.৫৬ একর (২.৮ বর্গকিলোমিটার) |
| সংক্ষিপ্ত নাম | জাবি(JU) |
| ঢাকা থেকে দূরত্ব | প্রায় ৩২ কিলোমিটার |
কি কি দেখবেন
অতিথি পাখি দেখার জন্য শীতকালে ভ্রমনে যেতে পারেন এছাড়া পুরো ক্যাম্পাস সবুজে মোড়া। অতিথি পাখির কলতান, জলকেলী ও লেকের জলে ফোটা লাল শাপলার সৌন্দর্য এক অন্যোন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সৌরভ বিলিয়ে যায় সমগ্র ক্যাম্পাস জুড়ে। অতিথি পাখির মধ্যে রয়েছে খঞ্জনা, সরালি, ধুপানি, সিন্ধু ঈগল, বামুনিয়া হাঁস, হুড হুড, পাতিতারা, পাতারিহাঁস, গয়ার, নোনাজোৎসা, লালমুড়ি, বাড়িঘোরা ইত্যাদি। ফলে শীত এলেই পাখিপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়। এখানের সাইনবোর্ডের লেখা আছে: পাখিদের প্রতি সদয় হোন… লেকের পাশে নীরবতা বজায় রাখুন… নিরাপদ দূরত্বে থেকে পাখি পর্যবেক্ষণ করুন… ছবি তোলার জন্য ঢিল ছুঁড়ে পাখিদের উড়াবেন না। লেক পরিষ্কার রাখুন; আবর্জনা, পানির বোতল, পলিথিন ফেলবেন না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার টি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনার। ৫২ ফুট ব্যাস ও ৭১ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট শহীদ মিনারটি ১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলনের ও ১৯৭১সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক। শহীদ মিনার এর স্থপতি হলেন, রবিউল হুসাইন। ৮টি সিঁড়ি ও ৩টি স্তম্ভ বিশিষ্ট শহীদ মিনারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সম্মুখে গোল চত্বরের মাঝে অবস্থিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১৭টির মত লেক রয়েছে। তবে জাহানারা ইমাম ও প্রীতিলতা হল, প্রশাসনিক ভবন এবং মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন লেকে সবচেয়ে বেশী অতিথি পাখি দেখা যায়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই লেকগুলোকে অতিথি পাখির অভয়াশ্রম হিসাবে ঘোষণা করেছে।
আরও যা যা দেখতে পাবেন:
- কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ
- খেলার মাঠ
- শহীদ মিনার
- অতিথি পাখি
- পদ্ম পুকুর
- বটতলা
- বিশ্ববিদ্যালয় লেক
- ভাস্কর্য সংশপ্তক
- প্রজাপতির বাগান
- অমর একুশে
- অদম্য ২৪
- কবির সরণি
- মুন্নী সরণি
- টিএসসি
- সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চ
আরও: আলাদিন পার্ক
কিভাবে যাবেন
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার। আপনি বাসে রাজধানী ঢাকার কল্যাণপুর, গুলিস্তান, ফার্মগেইট এবং গাবতলী থেকে নবীনগর অথবা মানিকগঞ্জগামী যেকোন বাসে চড়ে সরাসরি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে আসতে পারবেন। ক্যাম্পাস মেইন রোডের সাথেই অবস্থিত।
কোথায় খাবেন
খাওয়ার জন্য এখানে প্রচুর ছোট বড় রেস্টুরেন্ট, হতেল্ম দোকান রয়েছে। তবে বটতলা খাওয়ার জন্য পরামর্শ থাকবে। কারন, এই বটতলা খাবারের জন্য বিখ্যাত। জাবির শহীদ মিনার থেকে সোজা পশ্চিম দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশ দিয়ে অল্প কিছুক্ষণ হেটে গেলেই দেখা মিলবে বটতলার।
বটতলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৫০টির মত দোকান রয়েছে। প্রায় সব গুলোই খাবারের দোকান। আপনি জাবির বটতলায় ১২০ পদের ভর্তা পাবেন! উল্লেখযোগ্য কিছু ভর্তা নাম হল: শুঁটকি ভর্তা, আলু ভর্তা, পেঁপে ভর্তা, রুই মাছের ভর্তা, বাদাম ভর্তা, ইলিশ ভর্তা, রুই মাছ ভর্তা, মরিচ ভর্তা, চিকেন ভর্তা, কালো জিরা ভর্তা, ডাল ভর্তা, সরিষা ভর্তা, ধনে পাতা ভর্তা, শিম ভর্তা, চিংড়ি মাছের ভর্তা, টাকি মাছের ভর্তা, রসুন ভর্তা, লইটা শুঁটকি ভর্তা ইত্যাদি। প্রতিটি ভর্তার দাম মাত্র ৫ টাকা! এছাড়া আরও পাবেন, পাখির ভুনা গোস্ত, মুরগির মাংস,গরু, হাঁস, শিং মাছ, রুই মাছ, ইলিশ ভাজি ইত্যাদি।
ফেসবুক: GoArif
