সোনারগাঁও জাদুঘর বা বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (Bangladesh Folk Art and Craft Foundation), বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত একটি সংস্কৃতি ও লোকশিল্প জাদুঘর। এটি সবার কাছে সোনারগাঁও জাদুঘর নামেই বেশি পরিচিত। এখানে রয়েছে প্রায় ৪৫০০ -এর অধিক প্রাচীন নির্দশন। পানাম নগরীর ঠাকুরবাড়ি ভবন ও ঈশা খাঁর তোরন এই দুই স্থাপনাকে একত্রে নিয়ে প্রায় ১৬ হেক্টর জায়গা জুড়ে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন বিস্তৃত।
১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সোনারগাঁওয়ের পানাম নগরীর একটি পুরোনো বাড়িতে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।
আরও: পানাম নগর
| অবস্থান | সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ |
| স্থাপিত | ১২ মার্চ, ১৯৭৫ |
| প্রতিষ্ঠাতা | জয়নুল আবেদিন |
| আয়তন | ১৫০ বিঘা |
| গ্যালারীর সংখ্যা | ১০টি |
| প্রবেশ ফি | ৫০টাকা |
| পার্কিং ব্যবস্থা আছে | হ্যাঁ |
সময়সূচী ও টিকিট মূল্য
সোনারগাঁও জাদুঘরের সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে বৃহস্পতিবার। আর সপ্তাহের বাকি দিন গুলোতে সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে বিশেষ দিনে যেমন, সরকারি ছুটির দিন, ঈদ, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারী, পহেলা বৈশাখ, জাতীয় শোক দিবসেও খোলা থাকে।
জাদুঘরের প্রবেশ টিকেট ফি জনপ্রতি ৫০ টাকা। বিদেশী দর্শনার্থীদের জনে ১০০ টাকা। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য জনপ্রতি ৩০ টাকায় প্রবেশ ফি দিতে হয়। এছাড়া বড় সর্দারবাড়ি প্রবেশ ফি ১০০ টাকা, বিদেশীদের জন্যে ২০০ টাকা।
অনলাইন: সোনারগাঁও জাদুঘরে প্রবেশ এর জন্য অনলাইন টিকিটিং পোর্টাল www.bfacf-ticket.gov.bd এর মাধ্যমে টিকিট ক্রয় করলে প্রতি টিকিটের মূল্যের সাথে ২.৬% সার্ভিস চার্জ যোগ হবে।
আরও: বাংলার তাজমহল
কি কি দেখবেন
এই ফাউন্ডেশনে আছে গোপীনাথ সাহা সরদার বাড়ি, জয়নুল আবেদীনের ঐতিহাসিক সংগ্রাম ভাস্কর্য, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের আবক্ষ ভাস্কর্য, জয়নুল আবেদীনের ভাস্কর্য, জয়নুল আবেদিন স্মৃতি জাদুঘর, লোকজ মঞ্চ, সেমিনার রুম, কারুশিল্প গ্রাম এবং সবুজে মোড়া সুবিশাল উদ্যান। এখানে আছে বাংলাদেশের গ্রাম বাংলার প্রাচীন শিল্পীদের সুনিপুণ হাতের তৈরী বিভিন্ন শৈল্পিক ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য নানা পণ্য সামগ্রী। দক্ষ শিল্পীরা প্রতিটি সৃষ্টিতে ফুটিয়ে তুলেছেন প্রাচীন বাংলার গ্রামীন ঐতিহ্য।
পাশাপাশি আরও রয়েছে কাঠে খোদাই করা বিভিন্ন কারুশিল্প, পটচিত্র, মুখোশ, আদিম জীবনভিত্তিক নিদর্শন, লোকজ বাদ্যযন্ত্র, পোড়ামাটির ফলক, লোহা তামা-কাসা-পিতলের তৈজসপত্র, লোকজ অলংকারসহ বৈচিত্রপূর্ণ অনেক প্রাচীন নিদর্শন। প্রতিবছর শীতকালে এখানে মাসব্যাপী লোকশিল্প মেলা হয়ে থাকে।
ওহহ, এখানে কারুপল্লীতে বৈচিত্র্যময় দোচালা, চৌচালা ও উপজাতীয়দের আদলে তৈরি ঘরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অজানা, অচেনা, আর্থিকভাবে অবহেলিত অথচ দক্ষ কারুশিল্পীর তৈরি বাঁশ- বেত, কাঠ খোদাই, মাটি, জামদানি, নকশিকাঁথা, একতারা, পাট, শঙ্খ, মৃৎ শিল্প ও ঝিনুকের সামগ্রী ইত্যাদি কারুপণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে এতে। আপনি চাইলে সেগুলো কিনতে পারবেন। কিনার সুযোগ রয়েছে এখানে।
এখানের সর্দার বাড়িতে মোট ১০টি গ্যালারী রয়েছে। গ্যালারিগুলোতে আপনি দেখতে পাবেন, কাঠ খোদাই, কারুশিল্প, পটচিত্র ও মুখোশ, আদিবাসী জীবনভিত্তিক নিদর্শন, গ্রামীণ লোকজীবনের পরিবেশ, লোকজ বাদ্যযন্ত্র ও পোড়ামাটির নিদর্শন, তামা-কাসা-পিতলের নিদর্শন, লোহার তৈরি নিদর্শন, লোকজ অলংকারসহ অনেক কিছু।
আরও: গোয়ালদি মসজিদ
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে পানাম সিটি এর দূরত্ব প্রায় ২৯ কিলোমিটার। নারায়ণগঞ্জ জেলার মোগরাপাড়া পয়েন্টে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তরে প্রায় ২.৫ কিলোমিটার অদূরে সোনারগাঁও থানার একটি নিকটতম শহর।
আপনাকে ঢাকা গুলিস্তান থেকে স্বদেশ, বোরাক, দোয়েল ও সোনারগাঁ নামক বাসে উঠে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় নামতে হবে। মোগরাপাড়া থেকে লোকশিল্প জাদুঘরের দূরত্ব প্রায় ২ কিলোমিটার। চাইলে রিক্সা অথবা সিএনজি তে করে যেতে পারেন। এছাড়া নিজস্ব পরিবহণ থাকলে সেটা দিয়েও যেতে পারেন। কারন যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো। গুলিস্তান থেকে ভাড়া নিতে পারে ৫০ হতে ১০০ টাকা।
আরও: মায়াদ্বীপ
কোথায় খাবেন
খাওয়ার জন্য এখানে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট ও দোকান রয়েছে। চাইলে জাদুঘরে প্রবেশের পূর্বে খেয়ে নিতে পারেন।
ফেসবুক: GoArif
