বালিয়াটি জমিদার বাড়ি (Baliati Zamindar Bari) বা বালিয়াটি প্রাসাদ বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত। বালিয়াটি প্রাসাদ “বালিয়াটি জমিদার বাড়ি” নামে পরিচিত। মানিকগঞ্জ জেলার সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ঢাকা জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
জমিদার বাড়িটি বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের মাধ্যমে সংরক্ষণ ও পরিচালনা করা হচ্ছে। আর বাড়ির কেন্দ্রীয় ব্লকে রংমহল খ্যাত ভবনে যাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে। বালিয়াটি প্যালেস নামেও সবার কাছে পরিচিতি রয়েছে। ঊনবিংশ শতকে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী প্রাসাদের চত্বরটি প্রায় ১৬ হাজার ৫৫৪ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত। আপনি ভ্রমনে গেলে বাড়ির প্রবেশ ফটকে দেখতে পাবেন দুই পাশে রয়েছে দুটি সিংহের মূর্তি।
| অনন্য নাম | বালিয়াটি প্রাসাদ |
| ধরন | জমিদার বাড়ি |
| আয়তন | ১৬৫৫৪ বর্গমিটার |
| অবস্থান | মানিকগঞ্জ, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ |
| স্থাপিত | ১৯ শতক |
| ঢাকা থেকে দূরত্ব | ৬৪.৪ কিলোমিটার (ম্যাপ) |
| প্রবেশ মূল্য | ২০ টাকা |
কি কি দেখবেন
বাড়ির প্রাসাদের কক্ষ সংখ্যা ২০০টি এবং প্রতিটি কক্ষেই সুনিপুণ কারুকাজ লক্ষ্য করা যায়।
- বালিয়াটি প্রাসাদ
- গোলাবাড়ি
- পশ্চিম বাড়ি
- পূর্ববাড়ি
অসাধারণ দৃষ্টিনন্দন ইমারত, নির্মাণ কৌশল আর অলংকরণে অপূর্ব দেখতে এই জমিদার বাড়িটি। প্রধান ফটক দিয়ে জমিদার বাড়িতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে প্রশস্ত আঙ্গিনা। এই লাইনে ৪টি ভবন রয়েছে। এছারও অন্দরমহল ও কয়েকটি পুকুর রয়েছে জমিদার বাড়ীর পিছনের দিকে।
কিভাবে যাবেন
মতিঝিল থেকে বাস: ঢাকার মতিঝিল এলাকায় কাউন্টার থেকে মানিকগঞ্জের উদ্দেশে “মানিকগঞ্জ এসি লিংক লিমিটেড” বাস ছেড়ে যায়।
গাবতলী থেকে বাস: এছাড়া গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আরিচা বা মানিকগঞ্জগামী “এস বি লিংক” বা, যে সব বাস সাটুরিয়া হয়ে যায় সেইসব বাসে করে যেতে পারবেন। সাটুরিয়া পার হয়ে মানিকগঞ্জের ৮ কিমি আগেই সাটুরিয়ার জিরো পয়েন্টে নেমে যেতে হবে। বাসের সুপারভাইজারকে বালিয়াটি জমিদার বাড়ির কথা বললেই আপনাকে নামিয়ে দিবে। সময় লাগতে পারে প্রায় ২ ঘন্টা থেকে ২:৩০ মিনিট। ভাড়া নিতে পারে ৩৫ থেকে ৭০ টাকা; (এস বি লিংক: ১১০ টাকা – সাটুরিয়ার জিরো পয়েন্ট)।
জিরো পয়েন্ট থেকে বালিয়াটি জমিদার বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১ কিলোমিটার। আপনি ইজিবাইক বা সিএনজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা ভাড়া দিয়েই যেতে পারবেন। এছাড়া সাটুরিয়া বাস স্ট্যান্ডে নেমেও সিএনজি/ইজিবাইক দিয়ে যেতে পারবেন তবে ভাড়া নিবে ৬০থেকে ৮০ টাকা।
উত্তরা থেকে বাস: ঢাকার উত্তরা থেকে যেতে চাইলে আপনি আব্দুল্লাপুর হয়ে নবীনগর যাবেন। স্মৃতিসৌধের সামনে থেকে সাটুরিয়া যাবার বাস পাবেন। ভাড়া নিতে পারে ৫০ থেকে ৮০ টাকা।
মানিকগঞ্জ থেকে বাস: মানিকগঞ্জ থেকে শুভযাত্রা, পল্লীসেবা, শুকতারা ইত্যাদি বাসে চড়ে যেতে পারেন। ভাড়া নিতে পারে ৩০ টাকা।
আরও: আহসান মঞ্জিল
সময়সূচী ও টিকেট মূল্য
জমিদার বাড়ি খোলা থাকার সময়সূচী শীতকাল এবং গ্রীষ্মকাল এর মধ্যে ১ ঘন্টা ব্যবধান হয়ে থাকে। শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে আর গ্রীষ্মকালে সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। মাঝে একটা বিরতি থাকে দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। আর শক্রবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতি থাকে। জমিদার বাড়ির সাপ্তাহিক বন্ধ হচ্ছে, রবিবার পূর্ণদিবস ও সোমবার অর্ধদিবসসহ, সরকারি ছুটির দিন সহ ঈদের পরের দিন।
জমিদার বাড়িতে দেশি দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশের জনপ্রতি টিকেট মূল্য ২০ টাকা। বিদেশি দর্শনার্থীদের টিকেট মূল্য ২০০ টাকা, সার্কভুক্ত দর্শনার্থী টিকেট মূল্য ১০০ টাকা করে।
কোথায় থাকবেন
জমিদার বাড়ী ভ্রমণে গিয়ে থাকার জন্য অনেক হোটেল রয়েছে। তবে সে জন্য আপনাকে মানিকগঞ্জ যেতে হবে। মানিকগঞ্জে থাকার জন্য অনেক গুলো হোটেল ও গেস্টহাউজ রয়েছে। মানিকগঞ্জ রেসিডেনসিয়াল বোর্ডিং (বেসরকারি), নবীন রেসিডেনসিয়াল বোর্ডিং (বেসরকারি) কিংবা জেলা পরিষদ বোর্ড হাউজ (সরকারি)।
কোথায় খাবেন
মানিকগঞ্জ জেলার বিখ্যাত খাবার হচ্ছে খেজুর গুড়। ভ্রমণে গিয়ে বিখ্যাত খাবার খেয়ে আসতে ভুলবেন না। এছাড়া আশেপাশে অনেক ছোট ও মাঝারি রেস্টুরেন্ট পাবেন, সেখান থেকে খেয়ে নিতে পারেন।
ফেসবুক: GoArif
