জল্লাদখানা বধ্যভূমি (Jalladkhana Badhyabhumi), ঢাকা জেলার মিরপুর ১০ নাম্বারে অবস্থিত। ১৯৯৯ সালে ১৫ই নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে মিরপুরের বিভিন্ন জায়গা খনন করা হলে মিরপুর ১০ এ জল্লাদ খানা বধ্যভূমি আবিষ্কৃত হয়। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বধ্যভূমিগুলোর একটি।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী প্রায় দেড় মাস অবরুদ্ধ থাকা মিরপুরের অনেক গুলো জায়গাই পাকিস্থানিদের বর্বর অত্যাচারের করুন পরিণতি হিসেবে বধ্যভূমি হয়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে তৎকালীন সরকারের স্থপতি ও কবি রবিউল হুসাইনের সার্বিক পরিকল্পনায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রচেষ্টায় তৈরি করা হয় জল্লাদখানা বধ্যভূমি স্মৃতি পাঠ।
| অবস্থান | মিরপুর-১০, ঢাকা, বাংলাদেশ |
| বধ্যভূমি আবিষ্কার | ১৯৯৯ সালের ১৫ই নভেম্বর |
| বধ্যভূমি আবিষ্কার করেন | বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-এর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেড |
| বধ্যভূমি স্থপতি | কবি রবিউল হুসাইন |
| উদ্বোধন | ২০০৭ সালের ২১ জুন |
| মাথার খুলি পাওয়া যায় | ৭০টি |
| অস্থিখণ্ড পাওয়া যায় | ৫,৩৯২টি |
যুদ্ধের সময় পাম্প হাউজ হিসেবে পরিচিত মিরপুর ১০ এর এই এলাকাটিকে বধ্য ভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছিল পাকিস্থানি বাহিনী। পাকিস্থানিরা স্বাধীনতা প্রিয় বাঙ্গালীদের তাদের ট্রেনিং প্রাপ্ত জল্লাদ দিয়ে পাম্প হাউজের কূপের সামনে শিরশ্ছেদ করে পানি ভর্তি অন্ধকার কূপে ফেলে দিত। ধারণা করা হয় এই বধ্যভূমির বড় বড় সেফটি ট্যাঙ্ক ও আসে পাশের অন্যান্য জায়গায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাঙ্গালির লাশ গুম করা হয়েছিল।
বধ্যভূমি খনন কালে ৭০ টি মাথার খুলি, ৫২৯২ টি অস্থি খন্ড, মেয়েদের শাড়ী, ফ্রক, ওড়না, অলংকার ও জুতা সহ শহীদদের ব্যবহৃত নানা জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। জাদুঘরের পূর্ব পাশে শিল্পী রফিকুন নবী ও মনিরুজ্জামান এর যৌথ উদ্যোগে টেরাকোটা ইট ও লোহার সমন্বয়ে “জীবন অবিনশ্বর” ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। বধ্যভূমির পাশেই সর্ব সাধারণের দেখার জন্য রাখা হয়েছে অভিশপ্ত কূপ যার ভিতরে অসংখ্য মানুষের লাশ গুম করা হতো।
কিভাবে যাবেন
বাংলাদেশের যে কোন স্থান থেকে প্রথমে ঢাকায় আসতে হবে। ঢাকার গুলিস্থান থেকে বাস বা CNG বা মোটরসাইকেলে করে মিরপুর ১০ এ চলে আসবেন। মিরপুর গোল চত্বর থেকে ১১ নম্বরের দিকে কিছুটা আগালে বেনারশি পল্লীর প্রথম গেট ধরে সামলে আগালেই জল্লাদখানা বধ্যভূমি পাবেন।
ফেসবুক: GoArif
