মালদ্বীপের সেরা ১০টি দর্শনীয় স্থান নিয়ে বিস্তারিত। ভারত মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা ১,২০০টিরও বেশি প্রবাল দ্বীপের এক স্বর্গীয় দেশ মালদ্বীপ (Maldives)। ফিরোজা নীল সমুদ্র, সাদা বালির সৈকত, রঙিন কোরাল রিফ আর লাক্জারি রিসোর্টের জন্য বিখ্যাত এই দেশটি প্রতিবছর লাখো পর্যটককে আকৃষ্ট করে। হানিমুনাররা যেমন এখানে আসেন রোমান্টিক সময় কাটাতে, তেমনি অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীরা আসেন ডাইভিং আর ওয়াটার স্পোর্টসের জন্য। চলুন জেনে নিই মালদ্বীপের সেরা ১০টি দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে।
আরও: মালদ্বীপ ভ্রমণের সম্পূর্ণ গাইড
১. মালে
মালে (Malé) মালদ্বীপের রাজধানী এবং সবচেয়ে বড় শহর। মাত্র ৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে এটি পৃথিবীর অন্যতম ছোট রাজধানী। কিন্তু ছোট হলেও এখানে দেখার মতো অনেক কিছু আছে। গ্র্যান্ড ফ্রাইডে মসজিদ মালের সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপনা। ১৯৮৪ সালে উদ্বোধন করা এই মসজিদের সোনালি গম্বুজ দূর থেকেই চোখে পড়ে। সাদা মার্বেলে তৈরি এই মসজিদে একসাথে ৫,০০০ মানুষ নামাজ পড়তে পারেন। মসজিদের ভিতরে সুন্দর ক্যালিগ্রাফি আর কারুকাজ দেখার মতো।
মালে ফিশ মার্কেট স্থানীয় জীবনযাত্রা দেখার জন্য চমৎকার জায়গা। প্রতিদিন সকালে তাজা মাছ নিয়ে জেলেরা এখানে আসেন। টুনা, স্ন্যাপার, গ্রুপার – নানা ধরনের মাছ এখানে পাওয়া যায়। মার্কেটের পাশেই লোকাল মার্কেট যেখানে সবজি, ফল আর স্থানীয় জিনিসপত্র কিনতে পাওয়া যায়। ন্যাশনাল মিউজিয়াম মালদ্বীপের ইতিহাস জানার জন্য আদর্শ জায়গা। এখানে প্রাচীন রাজাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, পুরনো মুদ্রা, অস্ত্র আর ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষিত আছে। ইসলাম আসার আগের বৌদ্ধ যুগের কিছু মূর্তিও এখানে দেখা যায়।
সুলতান পার্ক শহরের মাঝে একটু শান্তি পেতে চাইলে এখানে আসতে পারেন। সবুজে ঘেরা এই পার্কে বসে বিশ্রাম নেওয়া যায়। মালে ছোট শহর, হেঁটেই পুরো শহর ঘুরে দেখা যায়।
আরও: মালদ্বীপ যেতে কত টাকা লাগে
২. ভাধু দ্বীপ
মালদ্বীপের সবচেয়ে মায়াবী আর অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখতে হলে যেতে হবে ভাধু দ্বীপে (Vaadhoo Island)। রা অ্যাটলের এই ছোট্ট দ্বীপটি বিখ্যাত তার বায়োলুমিনেসেন্ট বিচের জন্য, যাকে বলা হয় “সি অফ স্টারস” বা তারার সমুদ্র। রাতের বেলা এখানকার সমুদ্রের পানি উজ্জ্বল নীল আলোতে জ্বলে ওঠে। মনে হয় যেন আকাশের তারা সমুদ্রে নেমে এসেছে। এই অপূর্ব দৃশ্যের কারণ হলো ডাইনোফ্ল্যাজেলেট নামক এক ধরনের ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্ল্যাঙ্কটন। এরা নিজেদের রক্ষার জন্য আলো ছড়ায়, যা পানির নড়াচড়ায় সক্রিয় হয়।
ঢেউ আছড়ে পড়ার সময় বা সৈকতে হাঁটলে পায়ের নিচে নীল আলো জ্বলে ওঠে – এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। এই ঘটনা সারা বছর ঘটে না। এপ্রিল থেকে নভেম্বর, বিশেষ করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে এটি বেশি দেখা যায়। অমাবস্যার রাতে যখন চারদিক অন্ধকার থাকে, তখন এই আলো সবচেয়ে উজ্জ্বল দেখায়। ভাধু দ্বীপ মালের ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৩ ঘণ্টার দূরত্বে। স্পিডবোট বা ডোমেস্টিক ফ্লাইট নিয়ে এখানে যাওয়া যায়। অনেক রিসোর্ট এই দ্বীপে নাইট ট্যুরের ব্যবস্থা করে।
আরও: ভারতের সেরা ১০টি দর্শনীয় স্থান
৩. আন্ডারওয়াটার রেস্তোরাঁ
মালদ্বীপে এমন কিছু রেস্তোরাঁ আছে যেগুলো সমুদ্রের নিচে অবস্থিত। এখানে খাবার খেতে খেতে চারপাশে মাছ, কচ্ছপ আর কোরাল রিফ দেখা যায় – একদম অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। ইথা আন্ডারসি রেস্তোরাঁ কনরাড মালদ্বীপ রাঙ্গালি আইল্যান্ডে অবস্থিত। ২০০৫ সালে চালু হওয়া এটি বিশ্বের প্রথম আন্ডারওয়াটার রেস্তোরাঁ হিসেবে খ্যাত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ মিটার নিচে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁর চারপাশ কাচ দিয়ে ঘেরা, যা ২৭০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউ দেয়। মাত্র ১৪ জন বসার জায়গা আছে, তাই আগে থেকে বুকিং দিতে হয়।
৫.৮ আন্ডারসি রেস্তোরাঁ হুরাওয়ালি মালদ্বীপে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্পূর্ণ কাচের আন্ডারওয়াটার রেস্তোরাঁ। ৫.৮ মিটার গভীরে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁয় একসাথে অনেক মানুষ খেতে পারেন। মাল্টি-কোর্স টেস্টিং মেনু এখানকার বিশেষত্ব। সাবসিক্স নিয়ামা প্রাইভেট আইল্যান্ডে অবস্থিত একটি অনন্য আন্ডারওয়াটার ক্লাব আর রেস্তোরাঁ। এখানে খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি পার্টিও করা যায়। এসইএ রেস্তোরাঁ আনান্তারা কিহাভা ভিলাতে আছে, যেখানে আন্ডারওয়াটার ওয়াইন সেলারও আছে। এসব রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে খরচ বেশি – জনপ্রতি ২০০-৪০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু যে অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়, তা সত্যিই অবিস্মরণীয়।
৪. হানিফারু বে
বা অ্যাটলে অবস্থিত হানিফারু বে (Hanifaru Bay) ইউনেস্কো বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। এটি মালদ্বীপের সবচেয়ে বিখ্যাত স্নরকেলিং স্পট। মে থেকে নভেম্বর মাসে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমে এই উপসাগরে জুপ্ল্যাঙ্কটন জমা হয়। এই প্ল্যাঙ্কটন খেতে শত শত ম্যান্টা রে এখানে আসে। একসাথে ১০০-২০০টি ম্যান্টা রে দেখা যায় – পৃথিবীর আর কোথাও এমন দৃশ্য দেখা যায় না। ভাগ্য ভালো থাকলে তিমি হাঙরও দেখা যায়।
হানিফারু বে একটি সংরক্ষিত এলাকা। এখানে প্রবেশের জন্য পারমিট লাগে এবং দৈনিক সীমিত সংখ্যক পর্যটককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। স্কুবা ডাইভিং নিষিদ্ধ, শুধু স্নরকেলিং করা যায়। ম্যান্টা রে স্পর্শ করা বা খুব কাছে যাওয়া নিষেধ। বা অ্যাটলের রিসোর্টগুলো থেকে হানিফারু বে ট্রিপ করা যায়। আনান্তারা কিহাভা বা ফোর সিজনস ল্যান্ডা গিরাভারু রিসোর্টে থাকলে খুব সহজে এখানে যাওয়া যায়।
৫. মাফুশি
মালদ্বীপ মানেই যে শুধু দামি রিসোর্ট, তা নয়। মাফুশি (Maafushi) দ্বীপ প্রমাণ করে যে কম খরচেও মালদ্বীপ ঘুরে আসা যায়। দক্ষিণ মালে অ্যাটলে অবস্থিত মাফুশি একটি লোকাল দ্বীপ। এখানে প্রচুর গেস্টহাউস আছে যেগুলো রিসোর্টের চেয়ে অনেক সস্তা। দ্বীপটিতে বিকিনি বিচ আছে, যেখানে পর্যটকরা স্বাভাবিক সাঁতারের পোশাক পরতে পারেন – কারণ মালদ্বীপের লোকাল দ্বীপগুলোতে ইসলামিক নিয়ম মানতে হয়।
মাফুশি থেকে অনেক ওয়াটার স্পোর্ট আর এক্সকারশন করা যায়। স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, ডলফিন ওয়াচিং, স্যান্ডব্যাঙ্ক ট্রিপ – সব এখান থেকে করা যায়। শার্ক পয়েন্ট আর স্টিংরে পয়েন্টে গিয়ে হাঙর আর স্টিংরে দেখা যায়। রাতে মাফুশির লোকাল রেস্তোরাঁগুলোতে তাজা সীফুড খাওয়ার অভিজ্ঞতা দারুণ। গ্রিল্ড টুনা, ফিশ কারি, গারুদিয়া (মালদিভিয়ান ফিশ স্যুপ) – এসব চেষ্টা করা যায়। মাফুশি মালে থেকে স্পিডবোটে মাত্র ৩০-৪৫ মিনিট দূরে। পাবলিক ফেরিও চলে, যা আরও সস্তা।
আরও: ইতালির সেরা ১০টি দর্শনীয় স্থান
৬. হুলহুমালে
হুলহুমালে (Hulhumale) একটি কৃত্রিম দ্বীপ যা মালের ভিড় কমানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিমানবন্দরের খুব কাছে হওয়ায় অনেক পর্যটক এখানে থাকতে পছন্দ করেন। হুলহুমালে বিচ খুবই সুন্দর এবং পরিষ্কার। এই সৈকত সূর্যোদয়ের দিকে অবস্থিত, তাই সকালে এখানকার দৃশ্য অসাধারণ। বিচফ্রন্ট রোড ধরে হাঁটা বা সাইকেল চালানো যায়। বিকেলে অনেক স্থানীয় মানুষ এখানে আসেন।
সেন্ট্রাল পার্ক শহরের মাঝে একটি বড় পার্ক যেখানে জগিং ট্র্যাক, খেলার মাঠ আর সবুজ ঘাস আছে। এখানে স্কেট পার্কও আছে। ফ্রুট অ্যান্ড ভেজিটেবল মার্কেটে স্থানীয় ফল আর সবজি কিনতে পাওয়া যায়। হুলহুমালে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক গাড়ির দ্বীপ – এখানে পেট্রোল বা ডিজেলের গাড়ি নেই। পরিবেশ-বান্ধব এই দ্বীপে অনেক ক্যাফে আর রেস্তোরাঁ আছে। ম্যানগ্রোভ এলাকাও দেখার মতো। রাতে দেরিতে বিমানে পৌঁছালে অনেকে এখানে রাত কাটান, কারণ সীপ্লেন শুধু দিনের বেলা চলে।
৭. আলিমাথা দ্বীপ
ভাভু অ্যাটলের আলিমাথা দ্বীপ (Alimatha Island) তার রাতের হাঙর ফিডিং এর জন্য বিখ্যাত। এখানকার রিসোর্টের কাছে প্রতি রাতে ডজন খানেক নার্স শার্ক আসে। রাতের খাবারের পর রিসোর্টের জেটি থেকে সমুদ্রের পানিতে তাকালে হাঙরগুলো দেখা যায়। এরা একদম নিরীহ এবং মানুষকে কোনো ক্ষতি করে না। পানিতে নেমে এদের পাশে সাঁতার কাটা যায় – একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
আলিমাথার আশেপাশে দারুণ সব ডাইভিং স্পট আছে। মিয়ারু কান্দু আর ফোট্টে কান্দু সরকারি সংরক্ষিত ডাইভ সাইট। এখানে ম্যান্টা রে, ঈগল রে, রিফ শার্ক, টার্টল আর নানা রকম রঙিন মাছ দেখা যায়। দ্বীপটি প্রায় ৭০০ মিটার লম্বা এবং প্রায় ২৫০ মিটার চওড়া। হেঁটে পুরো দ্বীপ ঘুরে দেখা যায়। সাদা বালির সৈকত, নারকেল গাছ আর ক্রিস্টাল ক্লিয়ার পানি – সব মিলিয়ে একটি আদর্শ ট্রপিক্যাল দ্বীপ।
৮. ফুভাহমুলাহ
মালদ্বীপের দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত ফুভাহমুলাহ (Fuvahmulah) দেশের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে অনন্য দ্বীপ। এটি একমাত্র মালদিভিয়ান দ্বীপ যেখানে প্রাকৃতিক মিঠাপানির হ্রদ আছে। ধাদিমাগি কিলহি একটি বড় মিঠাপানির হ্রদ যা প্রায় ৬.৩৭ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। সবুজ গাছপালা দিয়ে ঘেরা এই হ্রদে সাঁতার কাটা, মাছ ধরা আর বোটিং করা যায়। হ্রদের পাশে বসে পিকনিক করার জন্য এটি আদর্শ জায়গা। ফুভাহমুলাহর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ। ঘন সবুজ বন, হলুদ পাতা, বাদামি গাছের ছাল আর সোনালি বালির অপূর্ব মিশ্রণ। দ্বীপে বিভিন্ন ধরনের পাখি দেখা যায়।
এখানে থান্ডি বিচ নামে একটি কালো বালির সৈকত আছে – মালদ্বীপে এমন সৈকত বিরল। বান্দারা কিলহি আরেকটি ছোট হ্রদ। দ্বীপে ঘুরতে ঘুরতে ফুভাহমুলাহ হারবার দেখা যায় যেখানে স্থানীয় জেলেরা কাজ করেন। ফুভাহমুলাহ মালে থেকে ডোমেস্টিক ফ্লাইটে প্রায় ১ ঘণ্টার দূরত্বে। পর্যটকদের জন্য এখানে কিছু গেস্টহাউস আছে।
আরও: পাকিস্তানের সেরা ১০টি দর্শনীয় স্থান
৯. থুলুসধু দ্বীপ
কাফু অ্যাটলের থুলুসধু দ্বীপ (Thulusdhoo Island) ভারত মহাসাগরের সেরা সার্ফিং স্পটগুলোর একটি। দ্বীপের চারপাশে কোরাল রিফের কারণে এখানে দারুণ সব ঢেউ তৈরি হয়। চিকেন্স নামে একটি সার্ফ ব্রেক এখানে খুব বিখ্যাত। এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাসে সবচেয়ে ভালো ঢেউ আসে। শুরুর দিকের এবং মাঝারি লেভেলের সার্ফারদের জন্য এটি আদর্শ। অভিজ্ঞ সার্ফারদের জন্যও চ্যালেঞ্জিং ওয়েভ পয়েন্ট আছে।
দ্বীপটি মালে থেকে খুব কাছে – স্পিডবোটে মাত্র ৩০ মিনিট। সার্ফ ক্যাম্প আর গেস্টহাউসের দাম বেশি নয়, তাই বাজেট সার্ফাররা এখানে আসতে পছন্দ করেন। থুলুসধু কোকা-কোলা ফ্যাক্টরির জন্যও পরিচিত – মালদ্বীপের একমাত্র কোকা-কোলা বোতলজাত করার কারখানা এখানে আছে। দ্বীপ ঘুরতে ঘুরতে ফ্যাক্টরির পাশ দিয়ে যাওয়া যায়। সার্ফিং ছাড়াও এখানে ভালো স্নরকেলিং আর ডাইভিং স্পট আছে। স্থানীয় মানুষ খুব বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পর্যটকদের সাহায্য করতে পছন্দ করেন।
১০. গুরাইধু
কাফু অ্যাটলের গুরাইধু দ্বীপ ভিড় এড়িয়ে শান্তিতে সময় কাটানোর জন্য পারফেক্ট জায়গা। ১৯৭০ সাল থেকে এই দ্বীপে মানুষ বসবাস শুরু করেছে, তাই এটি তুলনামূলকভাবে নতুন। প্রায় ১,৭০০ মানুষ এই দ্বীপে বাস করেন। রঙিন বাড়ি আর প্রবাল পাথরের দেয়াল এই দ্বীপকে আলাদা চেহারা দিয়েছে। দ্বীপের বালির রাস্তা দিয়ে হাঁটতে খুব ভালো লাগে। বিকিনি বিচ পর্যটকদের জন্য আলাদা করে রাখা। মৌসুমী সার্ফ বিচ যেখানে ভালো ঢেউ আসে। স্নরকেলিং করতে গেলে রঙিন মাছ, কচ্ছপ আর কোরাল রিফ দেখা যায়।
গুরাইধু খুবই স্বচ্ছন্দ আর লেইড-ব্যাক পরিবেশের দ্বীপ। এখানে বড় কোনো রিসোর্ট নেই, আছে ছোট ছোট গেস্টহাউস। খাবার খেতে হয় লোকাল রেস্তোরাঁয়, যেখানে ঘরোয়া মালদিভিয়ান খাবার পরিবেশন করা হয়। দ্বীপ থেকে স্যান্ডব্যাঙ্ক ট্রিপ করা যায় – এক্কেবারে সমুদ্রের মাঝে ছোট্ট বালির দ্বীপে গিয়ে সময় কাটানো। আইল্যান্ড হপিং করে কাছের অন্যান্য দ্বীপও ঘুরে দেখা যায়। ডলফিন ওয়াচিং আর সানসেট ফিশিং ট্রিপও জনপ্রিয়। গুরাইধু মালে থেকে স্পিডবোটে ৪৫ মিনিট বা পাবলিক ফেরিতে প্রায় ২ ঘণ্টার দূরত্বে। যারা মালদ্বীপের স্থানীয় জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখতে চান এবং শান্ত পরিবেশে ছুটি কাটাতে চান, তাদের জন্য এই দ্বীপ আদর্শ।
দ্বীপে সন্ধ্যার পর রাস্তায় হাঁটলে স্থানীয় মানুষদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তারা খুবই বন্ধুসুলভ এবং পর্যটকদের সাথে গল্প করতে ভালোবাসেন। মাছ ধরার নৌকা ফিরে আসার সময় দেখা যায় – স্থানীয় জীবনযাত্রার একটি চমৎকার দৃশ্য। গুরাইধুতে থেকে আপনি সত্যিকারের মালদিভিয়ান অভিজ্ঞতা পাবেন, যা দামি রিসোর্টে পাওয়া যায় না।
আরও: বিশ্বের সেরা ১০ ভ্রমণ গন্তব্য
রোমের কোলোসিয়াম বা প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের মতো বিখ্যাত স্থাপনা মালদ্বীপে নেই। কিন্তু প্রকৃতি এখানে এমন সৌন্দর্য তৈরি করেছে যা কোনো মানুষের তৈরি স্থাপনাকে ছাড়িয়ে যায়। সমুদ্রতীর, আন্ডারওয়াটার রেস্তোরাঁ, ম্যান্টা রে এর সাথে সাঁতার, রাতের হাঙর দেখা – এসব অভিজ্ঞতা জীবনে একবার হলেও পাওয়া উচিত। তবে মালদ্বীপ ভ্রমণের সময় পরিবেশ সংরক্ষণের দিকে খেয়াল রাখা খুবই জরুরি। এই সুন্দর দ্বীপরাষ্ট্র জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকির মুখে। আমরা যদি সচেতন না হই, আগামী কয়েক দশকে অনেক দ্বীপ হয়তো সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যাবে। তাই দায়িত্বশীল পর্যটক হিসেবে আমাদের উচিত প্রকৃতিকে সম্মান করা এবং সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা।
ফেসবুক: GoArif
