রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড (Radiant Fish World), বাংলাদেশের চট্রগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ঝাউতলা প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের মেরিন ফিস অ্যাকুরিয়াম। কক্সবাজার মানেই বালির বিচ, ঢেউয়ের শব্দ আর দিগন্তজোড়া সমুদ্র। কিন্তু সমুদ্রের উপর থেকে দেখা আর সমুদ্রের ভেতরে মানে পানির নিচে ঢুকে দেখা তো এক কথা নয়! বঙ্গোপসাগরের নীল জলের নিচে যে রঙিন জগৎ আছে, সেটা নিজের চোখে দেখার সুযোগ পাবেন এই রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডে।
আরও: পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত
রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড কী?
৫০ হাজার বর্গফুটের অ্যাকুরিয়াম কমপ্লেক্স রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডটি প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচে তৈরি করা হয়েছে! এখানে সাগর আর মিঠাপানি মিলিয়ে প্রায় ২০০ -এর বেশি প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী আছে। হাঙর, পিরানহা, জেলিফিস, কাছিম, কাঁকড়া, অক্টোপাস, শাপলাপাতা, পানপাতা, সাগর কুঁচিয়া, পিতম্বরী, চেওয়া সহ বিরল সব প্রজাতি এক ছাদের নিচে দেখা পাবেন। শুধু মাছ দেখা না, প্রতিটি প্রজাতির পাশে তথ্যফলক আছে, যেখানে তাদের বাসস্থান, খাদ্যাভ্যাস আর বাস্তুতন্ত্রের ভূমিকা লেখা রয়েছে। এখানে বাচ্চাদের জন্য পুরোটাই যেন একটা জীবন্ত পাঠ্যপুস্তক। এছাড়া এখানে ১০,০০০+ দর্শনার্থীর ধারণ ক্ষমতা রয়েছে!
কী কী দেখবেন
ভ্রমণে গেলে দেখতে পাবেন যে, অ্যাকুরিয়ামের ভেতরে পুকুর ও সমুদ্রতলের পরিবেশ খুব যত্ন করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চারদিকে রঙিন মাছ সাঁতরে বেড়াচ্ছে, কাচের ওপাশে হাঙর আর রে-ফিস ভেসে যাচ্ছে! পুরো ব্যাপারটা মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। পুরো কমপ্লেক্স ঘুরে দেখতে ভালোভাবে ঘণ্টা দুয়েক লেগে যাবে।
অ্যাকুরিয়ামের বাইরে আরও দেখবেন:
- থ্রি-ডি ও নাইন-ডি মুভি থিয়েটার
- লাইভ ফিস রেস্টুরেন্ট
- কিডস জোন
- ফিস ফুট ম্যাসাজ
- ডিজিটাল কালার ল্যাব
- দেশী-বিদেশী পাখির সেকশন
- শপিং কর্নার ও সুভেনির শপ
- ছাদে বার-বি-কিউ জোন
সময়সূচী ও টিকেট মূল্য
অ্যাকুরিয়াম কমপ্লেক্সটিতে প্রবেশ টিকেট জনপ্রতি ৩০০ টাকা। তবে, অনলাইনে টিকেট কাটলে ৫০ টাকা ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। যাদের উচ্চতা ৩ ফুট ৬ ইঞ্চির নিচে, মানে ছোট বাচ্চাদের জন্য প্রবেশ ফি নেই। বিভিন্ন উপলক্ষে মাঝেমধ্যে ৫-১০% ছাড়ও থাকে।
অনলাইনে টিকিট বুক করুন
সময়সূচী: রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
ভ্রমণের সেরা সময়
অ্যাকুরিয়াম কমপ্লেক্সে যাওয়ার সেরা সময় হচ্ছে, অফ-সিজনে অর্থাৎ নভেম্বর থেকে মার্চ মাস। এ সময়ের মধ্যে গেলে ভিড় কম থাকে, ঘুরে দেখাটা আরামদায়ক হয়। পিক সিজনে (ডিসেম্বর-জানুয়ারি) ভিড় অনেক বেশি থাকে। একটু ফাঁকা পরিবেশ চাইলে সকালের দিকে যেতে পারেন।
কিভাবে যাবেন
আপনি ঢাকার সায়দাবাদ, কলাবাগান বা ফকিরাপুল থেকে গ্রিন লাইন, সোহাগ, শ্যামলী, হানিফ-সহ অনেক পরিবহনের এসি/নন-এসি বাস সরাসরি কক্সবাজার যায়। ভাড়া নিবে ৮০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে। বিমানে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে কক্সবাজার সরাসরি ফ্লাইট আছে, সময় লাগে মাত্র ১ঘন্টা।
কক্সবাজার থেকে রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড: আপনি কক্সবাজারের যেকোনো জায়গা থেকে সিএনজি, ইজিবাইক বা অটোরিকশায় চলে আসুন ঝাউতলা প্রধান সড়কে। রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড বললে সবাই দেখিয়ে দিবে। বিচ এলাকা থেকে ইজিবাইক রিজার্ভ নিলে ভাড়া পড়বে ৪০-৬০ টাকা। লাবণী বিচ থেকে হাঁটলেও ১৫-২০ মিনিটের পথ। আর বিমানবন্দর থেকে যেতে চাইলে সিএনজি বা অটোরিকশায় ৮০-১২০ টাকা ভাড়া পড়বে।
যোগাযোগ:
ঠিকানা: ২৯, ঝাউতলা প্রধান সড়ক, কক্সবাজার-৪৭৪২
ঢাকা অফিস: ২৩/ডি/১, বক্স কালভার্ট, কাঁঠালবাগান, পান্থপথ, ঢাকা-১২০৫
ফোন: ০১৮৫৭-৭৮৯২৩৪ / ০১৯৭৬-১৮৯২৩৪
ইমেইল: [email protected]
ওয়েবসাইট: radiantfishworldrfw.com
কোথায় খাবেন
রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডের ভেতরেই রেস্টুরেন্ট আছে। এছাড়া কাছেই আছে কক্সবাজারের পরিচিত পৌষী রেস্তোরাঁ আর ঝাউবন রেস্তোরাঁ। কক্সবাজারে প্রায় সব হোটেলেই খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা আছে। আপনার বাজেট অনুযায়ী যেকোন স্থান থেকে খেয়ে নিতে পারেন।
কোথায় থাকবেন
কক্সবাজারে থাকার জায়গার কোনো অভাব নেই! আপনার বাজেট অনুযায়ী গেস্টহাউস থেকে শুরু করে পাঁচতারা রিসোর্ট পর্যন্ত সব আছে এখানে। রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড ঝাউতলায় হওয়ায় কলাতলী ও লাবণী এলাকার হোটেলগুলো থেকে সহজেই যাওয়া যায়।
বাজেটে থাকতে চাইলে কলাতলী বিচ রোড ধরে অনেক মাঝারি মানের হোটেল পাবেন, ৮০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে রুম পাওয়া যায়। হোটেল সি-গাল, হোটেল মিডওয়ে ইন বা কলাতলী এলাকার ছোট হোটেলগুলো এই ক্যাটাগরিতে ভালো।
মাঝারি বাজেটে সি প্যালেস হোটেল, হোটেল লং বিচ বা ওশেন প্যারাডাইস-এর মতো হোটেল বেছে নিতে পারেন। ভাড়া পড়বে ২৫০০ থেকে ৬০০০ টাকার মধ্যে। এই রেঞ্জের হোটেলগুলোতে সমুদ্রের ভিউ পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। আর যদি একটু বেশি খরচ করেন তাহলে, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট বা মারমেইড বিচ রিসোর্টে থাকতে পারেন। এগুলোতে পুল, স্পা, বিচ অ্যাক্সেস সব আছে। ভাড়া ৮০০০ থেকে শুরু।
আশেপাশে আর কী দেখবেন
কক্সবাজারে এসে শুধু ফিস ওয়ার্ল্ড দেখে চলে যাওয়া একটু বেমানান লাগে তাই না? তাই কাছেই আছে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান।
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
- হিমছড়ি ঝরনা ও পাহাড়
- ইনানী বিচ
- মেরিন ড্রাইভ রোড
- মহেশখালী দ্বীপ
- রামু বৌদ্ধ বিহার
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ
রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড নিয়ে প্রশ্ন-উত্তর
রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড কি সপ্তাহের প্রতিদিন খোলা থাকে?
হ্যাঁ, সপ্তাহের সাতদিনই খোলা থাকে। সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা ঢুকতে পারেন। কোনো সাপ্তাহিক বন্ধ বা নির্দিষ্ট ছুটির দিন নেই, তবে জাতীয় উৎসব বা বিশেষ উপলক্ষে সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে। যাওয়ার আগে তাদের ফেসবুক পেজ বা নম্বরে একবার জেনে নিতে পারেন।
ছোট বাচ্চাদের জন্য কি আলাদা কোনো সুবিধা আছে?
আছে। কমপ্লেক্সের ভেতরে আলাদা কিডস জোন আছে। ছোটদের জন্য ফিস ফিডিং সেশনও আছে, যেখানে বাচ্চারা নিজের হাতে মাছকে খাবার দিতে পারে। পুরো অ্যাকুরিয়ামটাই আসলে বাচ্চাদের জন্য একটা জীবন্ত শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা।
থ্রি-ডি বা নাইন-ডি মুভির জন্য কি আলাদা টিকেট লাগে?
হ্যাঁ, মূল প্রবেশ টিকেটের বাইরে থ্রি-ডি ও নাইন-ডি মুভির জন্য আলাদা চার্জ আছে। ফিস ফুট ম্যাসাজ বা অন্য কিছু এক্সট্রা অ্যাট্রাকশনের ক্ষেত্রেও আলাদা খরচ আছে। তবে মূল অ্যাকুরিয়াম ঘুরে দেখা, কিডস জোন আর পাখির সেকশন মূল টিকেটেই কভার হয়।
ফটোগ্রাফি করা যাবে কি?
হ্যাঁ, অ্যাকুরিয়ামের ভেতরে ফটোগ্রাফি করা যায়। নিজের ফোন বা ক্যামেরায় ছবি তুলতে পারবেন।
কক্সবাজারের মূল বিচ থেকে রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড কতটা দূরে?
লাবণী বিচ থেকে হাঁটাপথে মাত্র ১৫-২০ মিনিটের দূরত্ব। ইজিবাইক বা সিএনজিতে গেলে ৫-১০ মিনিটেই পৌঁছে যাবেন, ভাড়া পড়বে ৪০-৬০ টাকা। কলাতলী বিচ এলাকা থেকেও একইভাবে যাওয়া যায়। ঝাউতলায় “পৌষী রেস্তোরাঁ”র সামনের মোড় থেকে বাঁয়ে একটু এগোলেই রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড।
ফেসবুক: GoArif
