মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প (Meghna–Dhonagoda Irrigation Project), বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলর উধামদিতে রয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প বা পাম্প হাউজ।
| অবস্থান | উধামদি, মতলব উত্তর, চাঁদপুর |
| নির্মিত সাল | ১৯৮৭ – ১৯৮৮ সালের অর্থ বছরে |
| সেচ প্রকল্প আয়তন | ৬৪ কিলোমিটার |
| প্রকল্প | বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ |
| পানি উত্তোলন ক্ষমতা | ৪৩.৩৫ কিউমেক |
| অধিগ্রহন জমি | ১৭৫৮৪ হেক্টর |
| পানি সরবরাহ | ১৪,৪০০ হেক্টর জমি |
| বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন | ১৯,০২১ হেক্টর জমি |
১টি পৌরসভা এবং ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে ২০০০ সালের ৩০ এপ্রিল স্বতন্ত্র উপজেলা হিসেবে মেঘনা-ধনাগোদা নদী পরিবেষ্টিত দ্বীপাঞ্চল মতলব উত্তর উপজেলার যাত্রা শুরু হয়! এরপর ২০০০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মতলব উত্তর নব-সৃষ্ট উপজেলা হিসাবে কার্যক্রম শুরু করে। মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প নির্মাণের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারন রয়েছে। তার ভিতরে উল্লেখযোগ্য হল: কৃষি উৎপাদনে সেচ প্রদান, বন্যার ক্ষয় ক্ষতি থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা , জলাবদ্ধতা নিরসন ও নদী ভাংঙ্গন থেকে পরিত্রাণ। ১৯৮৭ – ১৯৮৮ সালের অর্থ বছরে নির্মিত করা হয় মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প।
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প এর আয়তন ৬৪ কিলোমিটার। যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ সেচ প্রকল্প। সেচ প্রকল্পের জন্য মতলব উত্তর উপজেলার ১৭৫৮৪ হেক্টর জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পটি ধনাগোদা নদীর পাশেই অবস্থিত। এই ধনাগোদা নদীর পানি পাম্পের সাহায্যে মতলব উত্তর উপজেলার ভিতরে প্রবাহিত করা হয়। আবার যখন বন্যার পানি অতিরিক্ত হয়ে যায় তখন আবার এই সেচ পাম্পের সাহায্যেই উত্তরের পানি পাম্পের সাহায্যে ধনাগোদা নদীতে নিয়ে আসা হয়।
মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পটি পাম্প হাউজ নামে পরিচিত। এই পাম্প হাউজটি মতলব উত্তর এর উধামদিতে অবস্থিত। এই পাম্প হাউজ এর মাঝখান দিয়ে মতলব উত্তর বেড়ীবাঁধ এর রাস্তা চলে গিয়েছে। মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯,০২১ হেক্টর জমির বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন এবং ১৪,৪০০ হেক্টর এলাকার জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। মতলব উত্তরে রয়েছে ২টি পানি উত্তোলন কেন্দ্র। একটির অবস্থান উধামদিতে যার বর্ণনা আমি ইতিমধ্যে দিয়েছি। অপরটির অবস্থান মতলব এর কালিপুরে। এটার পানি উত্তোলন ক্ষমতা ২৮.৯ কিউমেক।
এছাড়া মতলব উত্তরে দু্টি বুস্টার পানি উত্তোলন কেন্দ্র রয়েছে। একটির অবস্থান ইসলামপুরে (উত্তোলন ক্ষমতা ২.২৬ কিউমেক), অপরটি দুবগিতে (উত্তোলন ক্ষমতা ৩.৪ কিউমেক)।
কিভাবে যাবেন
চাঁদপুর / বাবুরহাট থেকে কিছুক্ষণ পর পর সিএনজি আসে মতলব এর উদ্দেশ্যে। জন প্রতি ভাড়া ৪০-৮০টাকা নিতে পারে। সিএনজি আপনাকে মতলব বাজারে নামিয়ে দিবে অথবা মতলব ব্রিজে নিয়ে আসবে। মতলব ব্রিজ থেকে অথবা জনপ্রতি ৫টাকা দিয়ে নৌক করে নদী পার হয়ে সিএনজি অথবা মোটরসাইকেল অথবা অটো রিক্সা দিয়ে চলে আসতে পারেন পাম্প হাউজ বা মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প উধামদিতে। এছাড়া দাউদকান্দি থেকে ছিরারচর হয়েও মতলব আসতে পারেন।
ফেসবুক: GoArif
