এভারেস্ট ম্যান কামি রিতা শেরপা

এভারেস্ট ম্যান কামি রিতা শেরপা - GoArif ম্যাগাজিন
ছবি: সংগৃহীত

এভারেস্ট ম্যান কামি রিতা শেরপা, এভারেস্ট যিনি জয় করেছেন ৩২ বার! পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়ায় একবার পা রাখাটাই বেশিরভাগ পর্বতারোহীর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেন তারা, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেন, শরীর ও মনকে চরম সীমায় নিয়ে যান। আর সেই একই পথে, একই চূড়ায়, একই বরফ আর ঝড়ের মধ্যে দিয়ে একজন মানুষ এখন পর্যন্ত উঠেছেন ৩২ বার! বিশ্বাস হয়?

তাঁর নাম কামি রিতা শেরপা (Kami Rita Sherpa)।

দিনটি হচ্ছে, ১৭ মে ২০২৬ রবিবার। ভোর চারটার আগেই এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান কামি রিতা শেরপা। এই আরোহণটি তাঁর ৩২তম, যা তাঁর নিজেরই আগের রেকর্ড ভেঙে দিল! পৃথিবীর ইতিহাসে এর আগে কোনো মানুষ এভারেস্টে এতবার উঠতে পারেননি।

আরও: স্বপ্নে আঁকা শহর কেপ টাউন

কামি রিতার শুরুটা যেভাবে

কামি রিতার জন্ম ১৯৭০ সালের ১৭ জানুয়ারি, নেপালের সোলুখুম্বু জেলার থামে গ্রামে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৮০০ মিটার উচ্চতার এই ছোট্ট পার্বত্য গ্রামটিই তাঁর শৈশবের ঠিকানা। পাহাড়ের কোলে বড় হওয়া এই ছেলেটির জীবনে পর্বত মানে ছিল শুধু অসাধারণ দৃশ্য দেখা নয়, বরং জীবিকার মাধ্যম।

১৯৯২ সালে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে রান্নার সহকারী হিসেবে কাজ দিয়ে পর্বতের সাথে তাঁর পথচলা শুরু। তারপর পোর্টার, তারপর গাইড। ১৯৯৪ সালে মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে প্রথমবার এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখেন তিনি। সেই থেকে আর থামেননি। একেরপর এক রেকর্ড গড়েছেন আর নিজের করা রেকর্ড নিজেই ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড করেছেন।

রেকর্ডের পর রেকর্ড

নব্বইয়ের দশক থেকে প্রায় প্রতি বছরই এভারেস্টে উঠছেন কামি রিতা। কোনো কোনো বছর একই মৌসুমেই দুবার উঠেছেন। ২০১৮ সালে তিনি প্রথমবারের মতো বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে করেন, ২২তম আরোহণের মধ্য দিয়ে। এরপর থেকে প্রতিবারই তিনি নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন।

২০২৪ সালে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দুবার এভারেস্টে উঠেছিলেন তিনি, ১২ মে এবং ২২ মে। তখন তাঁর বয়স চুয়ান্ন বছর। সেটাই ছিল তার ২৯তম ও ৩০তম পর্বত আরোহণ।

এভারেস্ট ম্যান

পর্বতারোহণ মহলে তাঁকে ডাকা হয় “এভারেস্ট ম্যান” নামে। নামটা এমনিই আসে নি। শুধু এভারেস্টে তাঁর ৩১টি আরোহণ মিলিয়ে হিসাব করলে দেখা যায় তিনি মোট প্রায় ৯০,০০০ ফুট উচ্চতা অতিক্রম করেছেন। এভারেস্ট ছাড়াও মানাসলু, লোৎসে, চো ওয়ু এবং পাকিস্তানের কেটু সহ আরও কয়েকটি আট হাজার মিটারের চূড়ায় উঠেছেন তিনি, মোট আট হাজার মিটারের চূড়ায় তাঁর আরোহণ সংখ্যা ৪২!

পরিবার ও জীবন

তাঁর বাবা ছিলেন নেপালে বিদেশিদের জন্য পর্বতারোহণ শুরু হওয়ার পর প্রথম দিককার পেশাদার শেরপা গাইডদের একজন। পর্বত যেন এই পরিবারের রক্তেই মিশে আছে। তবে কামি রিতা চান না তাঁর সন্তানরা এই পথে আসুক। তিনি বলেছেন, “আমি চাই না আমার ছেলে পর্বত গাইড হোক। ঝুঁকি বাড়ছে, আর নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আসতে চাইছে না।”

রেকর্ড নিয়ে যা বলেন

রেকর্ড নিয়ে অহংকার নেই এই মানুষটার। AFP-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “রেকর্ড একদিন ভাঙবেই। আমি বেশি খুশি এটা ভেবে যে আমার আরোহণগুলো নেপালকে বিশ্বে পরিচিত করছে।” তাঁর কাছে এটা কাজ, গভীর দায়িত্ববোধ থেকে করা কাজ।

৩২তম এভারেস্ট জয়। একই পাহাড়, একই চূড়া। কিন্তু প্রতিবারের গল্পটা আলাদা। কামি রিতা শেরপা শুধু রেকর্ডই গড়ছেন না, তিনি একটা জাতির অদম্য জীবনীশক্তির প্রতীক হয়ে উঠছেন। তাইতো তিনি নেপালের এভারেস্ট ম্যান কামি রিতা শেরপা।


ফেসবুক: GoArif

শেয়ার করুন
গোআরিফ লগো আইকনগোআরিফ লগো আইকন

আপনার আশেপাশের দর্শনীয় স্থানের তথ্য দিন

আপনার আশেপাশের দর্শনীয় স্থানের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।