ভারতের আগ্রা শহরে যমুনা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা তাজমহল (Taj Mahal) শুধু একটি সৌধ নয়, এটি প্রেমের এক অমর কাব্য, স্থাপত্যশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন এবং মানব সভ্যতার এক অসাধারণ সৃষ্টি। সাদা মার্বেল পাথরে নির্মিত এই অপরূপ সৌধটি বিশ্বের সাতটি আশ্চর্যের একটি এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে এই অসাধারণ সমাধিসৌধটি নির্মাণ করেছিলেন। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক এই মনমুগ্ধকর সৌধ দেখতে আগ্রায় ছুটে আসেন।
১৬৩১ সালে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের প্রিয় স্ত্রী মমতাজ মহল তাদের ১৪তম সন্তান জন্মদানের সময় মারা যান। মমতাজের মৃত্যুতে শাহজাহান এতটাই শোকাহত হয়েছিলেন যে তিনি এক সপ্তাহ ধরে রাজকার্য থেকে দূরে থাকেন এবং দুই বছর ধরে সঙ্গীত শোনা ও বিলাসবহুল পোশাক পরা ত্যাগ করেন। মমতাজ মহলের প্রতি তার অসীম ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে তিনি তার স্মৃতিতে একটি অতুলনীয় সমাধিসৌধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।
তাজমহলের নির্মাণকাজ ১৬৩২ সালে শুরু হয় এবং প্রধান মূল সমাধিসৌধটি ১৬৪৮ সালে সম্পন্ন হয়। তবে সম্পূর্ণ কমপ্লেক্স, বাগান এবং অন্যান্য সহযোগী স্থাপনা নির্মাণে আরও পাঁচ বছর সময় লাগে, যা ১৬৫৩ সালে শেষ হয়। এই বিশাল প্রকল্পে প্রায় ২০,০০০ শ্রমিক এবং ১,০০০ হাতি কাজ করেছিল।
আরও: ভারতের সেরা ১০টি দর্শনীয় স্থান
স্থাপত্যশৈলী ও বৈশিষ্ট্য
তাজমহল মুঘল স্থাপত্যশৈলীর সর্বোচ্চ নিদর্শন, যা ভারতীয়, পার্সিয়ান এবং ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য মিশ্রণ।
আরও: লাদাখ
- তাজমহলের কেন্দ্রীয় গম্বুজটি এর সবচেয়ে চেনা এবং আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। এর উচ্চতা প্রায় ৭৩ মিটার (২৪০ ফুট) এবং এটি পেঁয়াজ আকৃতির গম্বুজ হিসেবে পরিচিত। কেন্দ্রীয় গম্বুজের চারপাশে চারটি ছোট গম্বুজ রয়েছে যা নকশায় পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- তাজমহলের চার কোণায় চারটি মিনার রয়েছে, যার প্রতিটি ৪০ মিটার উঁচু। এই মিনারগুলো শুধু সৌন্দর্যবর্ধক নয়, স্থাপত্যিক ভারসাম্যও রক্ষা করে। মজার বিষয় হলো, এই মিনারগুলো সামান্য বাইরের দিকে হেলানো রয়েছে যাতে ভূমিকম্পের সময় মূল সৌধের উপর পড়ে না যায়।
- তাজমহলের সম্পূর্ণ মূল সৌধ সাদা মার্বেল পাথরে নির্মিত, যা রাজস্থানের মাকরানা থেকে আনা হয়েছিল। দেয়ালে অসাধারণ পিয়েত্রা ডুরা (মূল্যবান পাথর খচিত) কাজ রয়েছে।
- তাজমহলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর নিখুঁত দ্বিপাক্ষিক প্রতিসাম্য। কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর সৌধটিকে দুই ভাগে ভাগ করলে দুই অংশ একে অপরের হুবহু প্রতিবিম্ব।
- তাজমহলের বিভিন্ন অংশে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে কুরআনের আয়াত খোদাই করা আছে। বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার আবদুল হক আমানত খান এই কাজ করেছিলেন। ১৬৪৮ সালে দক্ষিণ দরজার খিলানে তিনি “সর্বশক্তিমানের সাহায্যে সম্পন্ন” লেখাটি খোদাই করে কাজ শেষ করেন।
- মূল সমাধি কক্ষে মমতাজ মহল এবং শাহজাহানের নকল সমাধি (সেনোটাফ) রয়েছে। আসল সমাধিগুলো নিচের একটি গোপন কক্ষে রাখা আছে যা সাধারণের জন্য বন্ধ। অভ্যন্তরীণ কক্ষটি অষ্টভুজাকার এবং “হাশত বিহিশত” (আট স্তরের স্বর্গ) নীতি অনুসরণ করে ডিজাইন করা।
- মূল সৌধের দুই পাশে লাল বেলেপাথরের দুটি অভিন্ন ভবন রয়েছে। একটি হলো মসজিদ এবং অপরটি জাওয়াব (উত্তর), যা স্থাপত্যিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য নির্মিত।
ভ্রমণের সেরা সময়
তাজমহল দেখার সবচেয়ে আদর্শ সময় বা সেরা সময় হচ্ছে শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি)। এই সময়ে আবহাওয়া শীতল ও শুষ্ক থাকে এবং আকাশ পরিষ্কার থাকে। তবে এটি পিক সিজন হওয়ায় ভিড় বেশি থাকে।
আরও: নাগাল্যান্ড রাজ্য
কীভাবে যাবেন
বিমানে: আগ্রার নিজস্ব বিমানবন্দর রয়েছে যা শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে। তবে বেশিরভাগ পর্যটক দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন এবং সেখান থেকে আগ্রায় যান।
ট্রেনে: দিল্লি থেকে আগ্রায় ট্রেন সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সুবিধাজনক মাধ্যম।
- গাতিমান এক্সপ্রেস: সবচেয়ে দ্রুত, মাত্র ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে পৌঁছায়। এসি কোচ, খাবার সুবিধা এবং আরামদায়ক।
- শতাব্দী এক্সপ্রেস: দিল্লি থেকে আগ্রা প্রায় ২ ঘণ্টায়, সকালে ছেড়ে বিকেলে ফিরে আসার ব্যবস্থা।
- তাজ এক্সপ্রেস: সাশ্রয়ী বিকল্প, সময় নেয় প্রায় ২-৩ ঘণ্টা।
- রাজধানী এক্সপ্রেস: বিলাসবহুল ট্রেন।
বাসে: দিল্লি থেকে আগ্রা শাটল বাস পরিষেবা নিয়মিত চলাচল করে। সময় লাগে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা, খরচ ১৫০-৫০০ রুপি।
গাড়িতে: দিল্লি থেকে আগ্রা প্রায় ২০০ কিলোমিটার (প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা)। যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাওয়া সবচেয়ে দ্রুত। প্রাইভেট কার ভাড়া বা ট্যাক্সি নেওয়া যায়।
তাজমহলের গেট
তাজমহলে তিনটি গেট রয়েছে:
- পূর্ব গেট (East Gate): প্রধান এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রবেশপথ। এখানে সবচেয়ে বেশি লাইন হয়। টিকেট কাউন্টার এবং ক্লোকরুম এই গেটেই।
- পশ্চিম গেট (West Gate): তুলনামূলকভাবে কম ভিড়, স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয়। টিকেট কাউন্টার এবং শপিং কমপ্লেক্সে ক্লোকরুম সুবিধা আছে।
- দক্ষিণ গেট (South Gate): বর্তমানে শুধুমাত্র বের হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। তাজ গঞ্জ এলাকার কাছে।
- গুরুত্বপূর্ণ টিপ: গেট থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে কোনো যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ (বায়ু দূষণ রোধে)। পার্কিং থেকে ব্যাটারি চালিত গাড়ি বা হেঁটে যেতে হয়।
টিকেট মূল্য ও সময়সূচি
বিদেশি পর্যটক:
- সাধারণ প্রবেশ: ১,১০০ রুপি
- মূল সমাধি কক্ষে প্রবেশ (অতিরিক্ত): ২০০ রুপি
- মোট (সমাধি কক্ষসহ): ১,৩০০ রুপি
ভারতীয় নাগরিক ও SAARC দেশের পর্যটক:
- সাধারণ প্রবেশ: ৫০ রুপি
- মূল সমাধি কক্ষে প্রবেশ (অতিরিক্ত): ২০০ রুপি
১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশ।
টিকেটে যা অন্তর্ভুক্ত:
- জুতার কভার
- পানির বোতল
- আগ্রার পর্যটক গাইড ম্যাপ
- ব্যাটারি বাস সেবা
- গল্ফ কার্ট সুবিধা
খোলা থাকার সময়
- তাজমহল প্রতি শুক্রবার বন্ধ থাকে মসজিদে নামাজের জন্য। শুক্রবার বন্ধ থাকার কারণে শনিবার সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। এছাড়া জাতীয় ছুটির দিন, দিওয়ালি, ক্রিসমাস, নববর্ষের মতো ছুটির দিনে প্রচুর ভিড় হয়।
- মাসে পাঁচ রাত (পূর্ণিমার দুই দিন আগে, পূর্ণিমার দিন এবং দুই দিন পরে) তাজমহল রাতে দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। চাঁদের আলোতে তাজমহল দেখার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। তবে টিকেট আগে থেকে বুক করতে হয়।
- সূর্যোদয়ের ৩০ মিনিট আগে থেকে সূর্যাস্তের ৩০ মিনিট আগে পর্যন্ত
- শুক্রবার সম্পূর্ণ বন্ধ
- সাধারণত সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০টা পর্যন্ত (শীতকালে)
- গ্রীষ্মকালে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা
টিকেট কেনার উপায়
অনলাইনে:
- অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: https://www.tajmahal.gov.in
- ASI (Archaeological Survey of India) এর ওয়েবসাইট
- ভিড় এড়াতে অনলাইনে আগে থেকে টিকেট কেনা উত্তম
- QR কোড দিয়ে দ্রুত প্রবেশ
এছাড়া অফলাইনে পূর্ব ও পশ্চিম গেটে টিকেট কাউন্টার থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিতে পারেন।
আরও: বাংলার তাজমহল
গাইড সেবা
তাজমহলে অনেক স্থানীয় গাইড পাওয়া যায়। তবে অনেক ভুয়া গাইডও আছে। সরকার অনুমোদিত গাইড খরচ: ২০০-৫০০ রুপি (২-৩ ঘণ্টা)। গাইডের লাইসেন্স চেক করুন। এখানে ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান, ইটালিয়ান, স্প্যানিশ, জাপানিজ, কোরিয়ান ভাষার গাইড পাওয়া যায়। এছাড়া প্রায় ১০৫ রুপি দিয়ে অডিও গাইড নিতে পারেন।
ভ্রমণের টিপস ও সর্তকতা
- লাইন এড়াতে এবং সময় বাঁচাতে অনলাইনে আগে থেকে টিকেট কিনুন।
- সূর্যোদয়ের সময় সেরা দৃশ্য এবং কম ভিড়। দরজা খোলার ১ ঘণ্টা আগে পৌঁছানো ভালো।
- যত কম জিনিস নিবেন, তত দ্রুত নিরাপত্তা চেক পার হবেন।
- আরামদায়ক জুতা পরুন, অনেক হাঁটতে হবে। মূল সৌধে জুতা খুলতে হয় তাই সহজে খোলা যায় এমন জুতা বেছে নিন।
- উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরুন যাতে সাদা মার্বেলের সাথে উজ্জ্বল নীল, লাল, সবুজ, হলুদ রঙের পোশাক ছবিতে চমৎকার দেখায়।
- পর্যাপ্ত পানি নিন, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে। স্বচ্ছ পানির বোতল নিয়ে যাওয়ার অনুমতি আছে।
- পরিচয়পত্র সাথে রাখুন, প্রবেশের সময় অবশ্যই দেখাতে হবে।
- প্রিন্সেস ডায়ানা যেখানে বসে ছবি তুলেছিলেন, সেই বিখ্যাত বেঞ্চ।
- তাজমহলের পাশ থেকে তোলা ছবিও দুর্দান্ত।
কাছাকাছি অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
- আগ্রা ফোর্ট: তাজমহল থেকে মাত্র ২.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক লাল দুর্গটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। ১৫৬৫ সালে সম্রাট আকবর নির্মাণ করেন। শাহজাহান এখানেই তার পুত্র ঔরঙ্গজেব দ্বারা বন্দী ছিলেন এবং এখান থেকেই তিনি তাজমহল দেখতে পেতেন।
- বেবি তাজ (ইতিমাদ-উদ-দৌলা): তাজমহলের ক্ষুদ্র সংস্করণ হিসেবে পরিচিত এই সমাধিসৌধটি মমতাজ মহলের পিতার। তাজমহলের আগে নির্মিত এই সৌধকে তাজমহলের পূর্বসূরি বলা হয়। সূক্ষ্ম মার্বেল কাজ এবং পিয়েত্রা ডুরা অসাধারণ।
- মেহতাব বাগ (চাঁদনী বাগান): যমুনা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত এই বাগান থেকে তাজমহলের সূর্যাস্তের দৃশ্য অসাধারণ। অনেকে বলেন শাহজাহান এখানে একটি কালো মার্বেলের তাজমহল বানাতে চেয়েছিলেন।
- ফতেহপুর সিক্রি: আগ্রা থেকে ৩৭ কিলোমিটার দূরে সম্রাট আকবরের পরিত্যক্ত রাজধানী। লাল বেলেপাথরের তৈরি এই শহর ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। বুলন্দ দরওয়াজা, জোধা বাইয়ের প্রাসাদ, পাঞ্চমহল দেখার মতো।
- আকবরের সমাধি (সিকান্দ্রা): সম্রাট আকবরের সমাধিসৌধ, আগ্রা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে। হিন্দু, ইসলামিক, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান স্থাপত্যের মিশ্রণ।
- জামা মসজিদ
- চিনি কা রৌজা
- রাম বাগ
- দয়াল বাগ
কোথায় থাকবেন
The Oberoi Amarvilas (৫ তারকা):
- তাজমহল থেকে মাত্র ৬০০ মিটার দূরে
- সব কক্ষ থেকে তাজমহলের দৃশ্য
- দাম: ৩০,০০০-১,০০,০০০+ রুপি প্রতি রাত
ITC Mughal (৫ তারকা):
- মুঘল স্থাপত্যে তৈরি
- বিশাল বাগান এবং স্পা
- দাম: ১৫,০০০-৫০,০০০ রুপি
Taj Hotel & Convention Centre:
- আরামদায়ক এবং বিলাসবহুল
- দাম: ১০,০০০-৩০,০০০ রুপি
Radisson Hotel Agra:
- আধুনিক সুবিধা
- দাম: ৪,০০০-১০,০০০ রুপি
Courtyard by Marriott:
- ভালো সেবা এবং খাবার
- দাম: ৫,০০০-১২,০০০ রুপি
Hotel Clarks Shiraz:
- তাজমহলের কাছাকাছি
- দাম: ৩,০০০-৮,০০০ রুপি
তাজ গঞ্জ এলাকায়:
- Backpacker Panda
- Hotel Sheela
- Zostel Agra
- দাম: ৫০০-২,০০০ রুপি প্রতি রাত
টিপ: তাজমহলের দৃশ্য সহ কক্ষ বুক করতে চাইলে আগে থেকে বুকিং দিন এবং খরচ বেশি হবে আশা করুন।
কোথায় খাবেন
পেঠা: আগ্রার সবচেয়ে বিখ্যাত মিষ্টি। দুধ দিয়ে তৈরি, বিভিন্ন স্বাদে পাওয়া যায়। পানচি পেঠা ওয়ালা সবচেয়ে বিখ্যাত দোকান।
মুঘলাই খাবার:
- বিরিয়ানি
- কোরমা
- রোগান জোশ
- কাবাব
- তন্দুরি চিকেন
চাট:
- দই ভাল্লা
- আলু টিক্কি
- গোল গাপ্পা (পানিপুরি)
দালমোথ: নামকীন বিখ্যাত।
ট্রিপ প্ল্যান
এক দিনের ট্রিপ
যদি শুধু তাজমহল দেখতে চান:
- সকাল: দিল্লি থেকে ট্রেনে আগ্রা (২ ঘণ্টা)
- ৮টা-১২টা: তাজমহল দর্শন
- ১২টা-২টা: লাঞ্চ ও আগ্রা ফোর্ট
- বিকেল: দিল্লিতে ফিরে যাওয়া
দুই দিনের ট্রিপ
দিন ১:
- সকাল: তাজমহল (সূর্যোদয়)
- দুপুর: আগ্রা ফোর্ট
- বিকেল: বেবি তাজ বা মেহতাব বাগ (সূর্যাস্ত)
দিন ২:
- সকাল: ফতেহপুর সিক্রি
- বিকেল: শপিং বা অন্যান্য সমাধিসৌধ
তিন দিনের ট্রিপ
উপরের সাথে যোগ করুন:
- আকবরের সমাধি
- জামা মসজিদ
- স্থানীয় বাজার ঘোরা
- মথুরা/বৃন্দাবন (কাছাকাছি পবিত্র শহর)
বিশেষ তথ্য ও মজার ফ্যাক্ট
- রঙ পরিবর্তন: তাজমহলের মার্বেল দিনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রঙ ধারণ করে – ভোরে গোলাপি, দুপুরে সাদা, সন্ধ্যায় সোনালি এবং চাঁদের আলোতে রূপালি।
- প্রতিসাম্য: তাজমহল নিখুঁত প্রতিসাম্য মেনে তৈরি কিন্তু একটি ব্যতিক্রম – শাহজাহানের সমাধি মমতাজের পাশে, যা কেন্দ্রীয় সমতা নষ্ট করে।
- মিনারের কৌশল: চারটি মিনার সামান্য বাইরের দিকে হেলানো যাতে ভূমিকম্পের সময় মূল সৌধের উপর না পড়ে।
- চোর: কথিত আছে তাজমহল নির্মাণের পর শাহজাহান সব কারিগরের হাত কেটে ফেলেছিলেন যাতে তারা আর এমন সুন্দর কিছু বানাতে না পারে। তবে এটি সত্য নয়।
- কালো তাজমহল: কিংবদন্তি আছে শাহজাহান যমুনা নদীর ওপারে কালো মার্বেলের একটি তাজমহল বানাতে চেয়েছিলেন নিজের সমাধির জন্য। কিন্তু ঔরঙ্গজেব তাকে বন্দী করায় তা সম্ভব হয়নি।
- ভিত্তি: তাজমহলের ভিত্তি কাঠের তৈরি যা যমুনা নদীর আর্দ্রতায় ভেজা থেকে শক্ত থাকে।
- ক্যালিগ্রাফি: তাজমহলে খোদাই করা সব ক্যালিগ্রাফি সমান আকারের মনে হলেও উপরের অক্ষরগুলো বড় করা যাতে দূর থেকে সব সমান দেখায়।
- পরিবেশ সুরক্ষা: বায়ু দূষণের কারণে তাজমহল হলদে হয়ে যাচ্ছিল। তাই ২০১৮ সালে মাল্টানি মিট্টি দিয়ে পরিষ্কার করা হয়।
তাজমহল নিয়ে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
তাজমহল দেখতে কত সময় লাগে?
মূল সৌধ দেখতে ২-৩ ঘণ্টা লাগে। তবে আপনি যদি সব কিছু ভালোভাবে দেখতে চান, মিউজিয়াম, বাগান, এবং বিভিন্ন কোণ থেকে ছবি তুলতে চান তাহলে ৩-৪ ঘণ্টা সময় রাখুন।
তাজমহল কোথায় অবস্থিত?
তাজমহল ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের আগ্রা শহরে যমুনা নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই শ্বেতপাথরের সমাধিটি নির্মাণ করেন।
তাজমহলে প্রবেশের কোন গেট সবচেয়ে ভালো?
পশ্চিম গেট (West Gate) সাধারণত কম ভিড় থাকে এবং দ্রুত প্রবেশ করা যায়। পূর্ব গেট (East Gate) প্রধান গেট কিন্তু বেশি ভিড় হয়।
তাজমহল কি রাতে দেখা যায়?
হ্যাঁ, মাসে মাত্র ৫ রাত (পূর্ণিমার আগের ২ দিন, পূর্ণিমার দিন এবং পরের ২ দিন) তাজমহল রাতে খোলা থাকে। সময় রাত ৮:৩০ থেকে ১২:৩০ পর্যন্ত। আলাদাভাবে টিকেট বুক করতে হয় এবং জায়গা সীমিত।
বাচ্চাদের জন্য কি টিকেট লাগে?
না, ১৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুদের জন্য প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, কোনো জাতীয়তার হোক।
তাজমহলে হুইলচেয়ার সুবিধা আছে কি?
হ্যাঁ, হুইলচেয়ার এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সুবিধা আছে। প্রবেশদ্বারে হুইলচেয়ার পাওয়া যায় এবং র্যাম্প রয়েছে। তবে মূল সমাধিতে যেতে কয়েকটি সিঁড়ি আছে যা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
আগ্রা থেকে জয়পুর কত দূর?
আগ্রা থেকে জয়পুর প্রায় ২৩৫ কিলোমিটার (প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা গাড়িতে)। ট্রেনেও যাওয়া যায় যা ৪-৫ ঘণ্টা সময় নেয়। বেশিরভাগ পর্যটক গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল ট্যুরে এই রুটে যান।
আগ্রায় কি নিরাপদ?
হ্যাঁ, আগ্রা সাধারণত নিরাপদ পর্যটন শহর। তবে সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করুন – নিজের জিনিসপত্র নজরে রাখুন, রাতে একা নিরিবিলি জায়গায় যাবেন না, এবং স্ক্যামার সম্পর্কে সচেতন থাকুন।
তাজমহল থেকে আগ্রা ফোর্ট কত দূর?
মাত্র ২.৫ কিলোমিটার দূরে, ট্যাক্সি বা অটো-রিকশায় ১০-১৫ মিনিট। দুটোই একদিনে সহজেই দেখা যায়।
তাজমহল কেন হলুদ হয়ে যাচ্ছে?
আগ্রার বায়ু দূষণ, কলকারখানার ধোঁয়া এবং যমুনা নদীর দূষণের কারণে সাদা মার্বেল হলদে হয়ে যাচ্ছিল। সরকার এখন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে যেমন মাল্টানি মাটি দিয়ে পরিষ্কার করা, আশেপাশের কলকারখানা বন্ধ করা এবং গাড়ি চলাচল সীমিত করা।
পূর্ণিমার রাতে তাজমহল দেখার টিকেট কীভাবে পাবো?
অনলাইনে আগে থেকে বুক করতে হবে (https://www.tajmahal.gov.in)। প্রতি রাতে মাত্র ৪০০ জন দর্শক অনুমোদিত (৮টি স্লট, প্রতিটিতে ৫০ জন)। টিকেট দাম ভারতীয়দের জন্য ৭৫০ রুপি এবং বিদেশিদের জন্য ১,০০০ রুপি।
ফেসবুক: GoArif
