পাকিস্তানের হিমালয়ের কোলে লুকিয়ে থাকা এক স্বর্গ হচ্ছে স্কার্দু (Skardu)। কল্পনা করুন, আপনি দাঁড়িয়ে আছেন পৃথিবীর ছাদে। চারপাশে তুষারাবৃত পর্বতশৃঙ্গ আকাশ ছুঁয়ে আছে, পায়ের নিচে ফিরোজা রঙের হ্রদ মিট্টিতে প্রতিফলিত হচ্ছে, আর মাথার উপরে এমন নীল আকাশ যা অন্য কোথাও দেখেননি। এটাই স্কার্দু। পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের এক লুকানো রত্ন, যেখানে প্রকৃতি তার সবচেয়ে সুন্দর রূপে হাজির হয়েছে।
পাকিস্তানের (Pakistan) গিলগিট-বালটিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত স্কার্দু সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,২২৮ মিটার (৭,৩১৬ ফুট) উচ্চতায়। শিগর নদী আর মহান সিন্ধু নদের সঙ্গমস্থলে বসে আছে এই শহর। কারাকোরাম পর্বতমালা আর হিমালয় পর্বতশ্রেণীর মাঝখানে অবস্থিত স্কার্দু এক অনন্য ভূপ্রকৃতি আর বাস্তুতন্ত্রের আশ্রয়স্থল। এমন জায়গা পৃথিবীতে আর কমই আছে।
স্কার্দু শুধু একটা পর্যটন শহর নয়। এটি হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কে২ (K2) এর গেটওয়ে। এখান থেকেই পর্বতারোহীরা তাদের অভিযান শুরু করেন। এখানে আছে পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মালভূমি দেওসাই সমভূমি। আছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ঠান্ডা মরুভূমি কাটপানা। আর এমন সব হ্রদ যেগুলোর সৌন্দর্য দেখে মনে হবে স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে।
স্থানীয় বালটি মানুষরা তিব্বতি আর ককেশিয়ান বংশোদ্ভূত। তাদের সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা আর স্থাপত্যশৈলী তিব্বতের সাথে এতটাই মিল যে স্কার্দুকে “তিব্বত-এ-খুরদ” বা “ছোট্ট তিব্বত” বলা হয়। এখানকার মানুষ কথা বলে বালটি ভাষায়, যা তিব্বতি ভাষার প্রাচীন একটা রূপ।
আরও: ফেয়ারি মিডোজ
কি কি দেখবেন
- শাংরিলা লেক (কাচুরা লেক): শাংরিলা লেক বা কাচুরা লেক স্কার্দুর সবচেয়ে বিখ্যাত জায়গা। একে “পৃথিবীর স্বর্গ” বলা হয়। স্কার্দু শহর থেকে মাত্র ৩২ কিলোমিটার দূরে এই হ্রদ। পাহাড় ঘেরা গভীর নীল পানির এই হ্রদ দেখে মনে হবে কোনো শিল্পীর আঁকা ছবি।
- দেওসাই ন্যাশনাল পার্ক: দেওসাই ন্যাশনাল পার্ক পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মালভূমি। গড় উচ্চতা ৪,১১৪ মিটার (১৩,৪৯৭ ফুট)। স্থানীয় ভাষায় দেওসাই মানে “দৈত্যদের ভূমি”। ৩,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই মালভূমি।
- সাতপারা লেক: স্কার্দু শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার উত্তরে সাতপারা লেক। ২০ মিনিটের জিপ যাত্রায় পৌঁছানো যায়। গ্লেসিয়ার পাহাড় ঘেরা এই স্বচ্ছ পানির হ্রদ। পাহাড়ের প্রতিফলন পানিতে পড়ে, দৃশ্যটা মনোমুগ্ধকর।
- কাটপানা কোল্ড ডেজার্ট: বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ঠান্ডা মরুভূমি কাটপানা। স্কার্দু শহরের একদম কাছেই। বালটি ভাষায় একে “নাকপো বিয়ামা” বলে। সোনালি বালিয়াড়ি, পেছনে তুষার আবৃত পাহাড়। দৃশ্যটা সাহারা মরুভূমি আর হিমালয়ের অসম্ভব সংমিশ্রণ।
- খারপোচো দুর্গ: ১৬ শতকে নির্মিত খারপোচো দুর্গ স্কার্দু শহরের উপর একটা পাহাড়ের চূড়ায়। “দুর্গের রাজা” অর্থ এর নাম। এখান থেকে পুরো স্কার্দু শহর দেখা যায়। সিন্ধু নদ সাদা বালির মধ্য দিয়ে বয়ে যাচ্ছে, দৃশ্যটা অসাধারণ।
- শিগর উপত্যকা: স্কার্দু থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরে শিগর উপত্যকা। কে২ আর গ্যাশারব্রাম পর্বতশৃঙ্গের গেটওয়ে এই উপত্যকা। সবুজ টেরেস, গম-ভুট্টার ক্ষেত, ফলের বাগান। এপ্রিকট, মালবেরি, পিচ, আপেল, নাশপাতি সব এখানে জন্মে।
- খাপলু উপত্যকা: স্কার্দু থেকে ১০৩ কিলোমিটার পূর্বে খাপলু উপত্যকা। শায়োক নদীর তীরে অবস্থিত এই সুন্দর উপত্যকা। খাপলু প্যালেস এখানকার মূল আকর্ষণ। ১৯ শতকে নির্মিত এই প্রাসাদ এখন মিউজিয়াম আর হোটেল।
- বাশো উপত্যকা: বাশো উপত্যকা স্কার্দুর লুকানো রত্ন। স্কার্দু থেকে প্রায় ৮০-৯০ কিলোমিটার দূরে। এখানে যেতে ৩ ঘণ্টা লাগে। সবুজে ভরা এই উপত্যকা অনেক কম ভিড়ের।
- মানথাল বুদ্ধ রক: স্কার্দু শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে মানথাল বুদ্ধ রক। অষ্টম শতাব্দীর বিশাল বুদ্ধমূর্তি পাথরে খোদাই করা। চারপাশে ছোট ছোট বোধিসত্ত্বের মূর্তি।
- ব্লাইন্ড লেক: ব্লাইন্ড লেক পাকিস্তান পর্যটনের লুকানো রত্ন। শিগরের কাছে অবস্থিত এই হ্রদ। পর্যটকদের কাছে এখনো খুব একটা পরিচিত নয়।
আরও: পাকিস্তানের সেরা ১০টি দর্শনীয় স্থান
ভ্রমণের সেরা সময়
স্কার্দু ঘুরতে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে মে থেকে সেপ্টেম্বর। এই সময়টায় আবহাওয়া থাকে দারুণ আরামদায়ক। দিনের তাপমাত্রা ১৫-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাতে একটু ঠান্ডা হয়, ৮-১৫ ডিগ্রি।
এই মৌসুমে আকাশ পরিষ্কার থাকে। কে২ সহ অন্যান্য পর্বতশৃঙ্গ স্পষ্ট দেখা যায়। দেওসাই সমভূমি রঙিন ফুলে ভরে যায়। সব রাস্তা খোলা থাকে, যেকোনো জায়গায় যাওয়া যায়। জুন-জুলাই পিক সিজন। এই সময় পর্যটক বেশি থাকে। হোটেল বুকিং আগে থেকে করা ভালো। জুলাইয়ের শুরুতে শান্দুর পোলো ফেস্টিভাল হয়। এটা দেখার সুযোগ পেলে মিস করবেন না।
কীভাবে যাবেন
বিমানে
ইসলামাবাদ থেকে স্কার্দু সরাসরি ফ্লাইট আছে। পিআইএ (পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস) আর এয়ার সিয়াল ফ্লাইট চালায়। ফ্লাইটে সময় লাগে মাত্র ১ ঘণ্টা। এটা সবচেয়ে দ্রুত আর নিরাপদ উপায়।
তবে ফ্লাইট বেশ দামি। এক দিকের টিকিট ৮০-২০০ ডলার। আগে থেকে বুক করলে সস্তায় পাওয়া যায়। পাহাড়ি এলাকায় ফ্লাইট ল্যান্ডিং খুবই কঠিন। পাইলটদের বিশেষ প্রশিক্ষণ লাগে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।
গ্রীষ্মকালে (মে-অক্টোবর) প্রতিদিন ফ্লাইট থাকে। শীতকালে সপ্তাহে ৩-৪ দিন। খারাপ আবহাওয়ায় ফ্লাইট বাতিল হতে পারে। তাই এক্সট্রা দিন হাতে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
কারাচি থেকেও এখন ডাইরেক্ট ফ্লাইট চালু হয়েছে। দুবাই থেকেও মাঝে মাঝে ফ্লাইট থাকে।
সড়কপথে
ইসলামাবাদ থেকে স্কার্দু প্রায় ৬৪০ কিলোমিটার দূরে। সড়কপথে যেতে ২২-২৪ ঘণ্টা লাগে। দুটো রুট আছে।
কারাকোরাম হাইওয়ে রুট: ইসলামাবাদ থেকে কারাকোরাম হাইওয়ে ধরে গিলগিট, তারপর জাগলট হয়ে স্কার্দু। এই রুট সারা বছর খোলা থাকে। রাস্তা খুবই খারাপ অবস্থায়। গিলগিট থেকে স্কার্দু ১৬৭ কিলোমিটার, কিন্তু সময় লাগে ৮ ঘণ্টা।
রাস্তা এতটাই বিপজ্জনক যে মৃত্যুর অভিজ্ঞতা হওয়া স্বাভাবিক। ভূমিধসের ঝুঁকি সবসময়। সরু রাস্তা, এক পাশে পাহাড়, অন্য পাশে গভীর খাদ। অভিজ্ঞ ড্রাইভার না হলে নিজে গাড়ি চালানো একদম অনুচিত।
বাবুসার পাস রুট: এই রুট মৌসুমী। শুধু মে থেকে অক্টোবর খোলা থাকে। নারান, কাগান হয়ে বাবুসার পাস পার হতে হয়। দৃশ্য অসাধারণ সুন্দর। তবে পাহাড়ি রাস্তা, খুবই সাবধানে যেতে হয়।
বাস সার্ভিস: NATCO (এসি ভলভো/দায়েওও) বাস চলে ইসলামাবাদ থেকে। ফয়সালাবাদ স্টেশন থেকে ছাড়ে। ভাড়া ১,৫০০-২,৫০০ রুপি। রাতের বাস, সকালে পৌঁছায়। আরামদায়ক, তবে যাত্রা দীর্ঘ আর ক্লান্তিকর।
প্রাইভেট ট্যাক্সি/জিপ: প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করা যায়। টয়োটা করোলা/ভিগো ভাড়া ২৫,০০০-৪০,০০০ রুপি। নিজের মতো চলাফেরা করা যায়, মাঝে থেমে ছবি তোলা যায়। তবে দীর্ঘ যাত্রায় ক্লান্ত হওয়া স্বাভাবিক।
আরও: মহেঞ্জোদাড়ো
কোথায় থাকবেন
শাংরিলা রিসোর্ট: স্কার্দুর সবচেয়ে বিখ্যাত রিসোর্ট। “পৃথিবীর স্বর্গ” নামে পরিচিত। কাচুরা লেকের পাশে অবস্থিত। সুইমিং পুল, রেস্তোরাঁ, সুন্দর বাগান সব আছে। হ্রদমুখী রুম থেকে দৃশ্য অসাধারণ। তবে বেশ দামি, রুম ভাড়া ১৫,০০০-৩৫,০০০ রুপি।
সেরেনা শিগর ফোর্ট: ঐতিহ্যবাহী দুর্গ হোটেলে রূপান্তরিত। আগা খান ট্রাস্ট সংস্কার করেছে। ৪০০ বছরের পুরনো স্থাপত্য। লাক্সারি সুবিধা, ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জা। রুম ভাড়া ৮,০০০-২৫,০০০ রুপি। হেরিটেজ হোটেল অভিজ্ঞতার জন্য আদর্শ।
পার্ল কন্টিনেন্টাল হোটেল: পাঁচ তারকা হোটেল। আধুনিক সুবিধা, স্পা, ফিটনেস সেন্টার। বিজনেস ট্রাভেলারদের জন্য উপযুক্ত। দারুণ সার্ভিস। রুম ভাড়া ১২,০০০-৩০,০০০ রুপি।
খোজ রিসোর্ট: আধুনিক সুবিধাসহ ভালো হোটেল। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রুম। রেস্তোরাঁ, ওয়াই-ফাই। ভালো সার্ভিস। রুম ভাড়া ৪,০০০-৭,০০০ রুপি।
মাউন্টেন লজ স্কার্দু: নদীর ধারে অবস্থিত। সুন্দর ভিউ। রেস্তোরাঁ, বার, গার্ডেন। রুম আরামদায়ক। রুম ভাড়া ৫,০০০-৮,০০০ রুপি।
স্নোল্যান্ড প্যালেস: শহরের কেন্দ্রে। সব জায়গায় যাওয়া সুবিধা। ক্যাবল টিভি, এসি। দাম ৩,৫০০-৬,০০০ রুপি।
বালটিস্তান কন্টিনেন্টাল হোটেল: বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য ভালো। পরিষ্কার রুম, বেসিক সুবিধা। দাম ১,৫০০-২,৫০০ রুপি।
কনকর্ডিয়া মোটেল: সাধারণ মানের হোটেল। বাজেটে থাকার জন্য ঠিক আছে। দাম ১,২০০-২,০০০ রুপি।
গেস্টহাউজ: স্থানীয় গেস্টহাউজ আরও সস্তা। ৮০০-১,৫০০ রুপিতে রুম পাওয়া যায়। তবে সুবিধা কম। ব্যাকপ্যাকারদের জন্য ভালো।
কোথায় খাবেন
বালটি খাবার পাকিস্তানের অন্যান্য এলাকা থেকে একদম আলাদা। মশলা কম, কার্বোহাইড্রেট বেশি। খাবার সাধারণত মৃদু স্বাদের।
মানথু (Manthu): তিব্বতি স্টাইলের মোমো বা ডাম্পলিং। মাংস বা সবজি ভর্তি। স্টিম করা। স্যুপের সাথে পরিবেশন করা হয়। খুবই জনপ্রিয় খাবার।
নামকিন চাই: নোনতা দুধ চা। একটু লবণ দিয়ে বানানো। প্রথমে অদ্ভুত লাগলেও পরে ভালো লাগবে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় গরম চা দারুণ।
বালটি লেন্টিল স্যুপ: মসুর ডাল আর সবজির ঘন ঝোল। জার্মান লেন্টিল স্যুপের মতো। একদম মৃদু স্বাদ। রুটি দিয়ে খেতে ভালো।
তান্দুরি কারি: স্থানীয় স্টাইলে তৈরি তান্দুরি খাবার। মুরগি বা ভেড়ার মাংস। মশলাদার, তবে বেশি ঝাল না।
শুকনো ফল: এপ্রিকট, আপেল, নাশপাতি শুকিয়ে বানানো। খুব সুস্বাদু। পুষ্টিকর স্ন্যাকস। কিনে নিয়ে আসা যায়।
তাজা ফল: গ্রীষ্মে তাজা এপ্রিকট, চেরি, আপেল, নাশপাতি পাওয়া যায়। রসালো আর মিষ্টি। দাম খুব কম।
ইয়াকের দই: ইয়াকের দুধের দই। ঘন আর টক। স্বাদ আলাদা। স্বাস্থ্যকর।
ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা
- স্কার্দু ২,২২৮ মিটার উচ্চতায়। কিছু মানুষের মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হওয়া দরকার। প্রথম দিন বিশ্রাম নিন। অনেক পানি পান করুন।
- পাহাড়ে ইউভি রশ্মি তীব্র। এসপিএফ ৩০+ সানস্ক্রিন অবশ্যই। টুপি, সানগ্লাস পরুন।
- প্রাথমিক চিকিৎসার বক্স সাথে নিন। ব্যথার ওষুধ, পেটের ওষুধ, অ্যালার্জির ওষুধ রাখুন। স্কার্দুতে হাসপাতাল আছে, তবে সীমিত সুবিধা।
- গরমের জন্য হালকা কাপড়। তবে রাত ঠান্ডা, তাই জ্যাকেট, সোয়েটার নিন। ট্রেকিং বুট, আরামদায়ক জুতা। রেইনকোট সাথে রাখুন।
- স্কার্দুতে এটিএম আছে, তবে সবসময় কাজ করে না। পর্যাপ্ত নগদ টাকা নিয়ে যান। ছোট নোট রাখুন।
- পাকিস্তানি নাগরিকদের কোনো পারমিট লাগে না। বিদেশিদের পাকিস্তান ভিসা লাগবে। কিছু এলাকায় বিশেষ পারমিট লাগতে পারে। ট্যুর অপারেটর এগুলো ম্যানেজ করে দেয়।
আরও: দীর্ঘ যাত্রায় কেন নেক পিলো ব্যবহার করবেন
ট্রিপ খরচ
বাজেট ট্রিপ (প্রতিদিন ৩,০০০-৫,০০০ রুপি):
- থাকা: ১,০০০-২,০০০ রুপি
- খাওয়া: ১,০০০-১,৫০০ রুপি
- যাতায়াত: ১,০০০-১,৫০০ রুপি
মিড-রেঞ্জ ট্রিপ (প্রতিদিন ৮,০০০-১৫,০০০ রুপি):
- থাকা: ৩,০০০-৬,০০০ রুপি
- খাওয়া: ২,০০০-৩,০০০ রুপি
- যাতায়াত: ৩,০০০-৬,০০০ রুপি
লাক্সারি ট্রিপ (প্রতিদিন ২৫,০০০+ রুপি):
- থাকা: ১০,০০০-৩৫,০০০ রুপি
- খাওয়া: ৫,০০০+ রুপি
- যাতায়াত: ১০,০০০+ রুপি
স্কার্দু নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা
স্কার্দু ঠিক কোথায় অবস্থিত?
স্কার্দু পাকিস্তানের গিলগিট-বালটিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত একটি শহর। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,২২৮ মিটার উচ্চতায়। কারাকোরাম পর্বতমালা আর হিমালয়ের মাঝে অবস্থিত। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কে২ এর গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত। শিগর নদী আর সিন্ধু নদের সংযোগস্থলে বসে আছে এই শহর।
স্কার্দুতে কমপক্ষে কতদিন থাকা উচিত?
স্কার্দুতে আদর্শ সময় ৫-৭ দিন। যদি শুধু মূল আকর্ষণ দেখতে চান (শাংরিলা লেক, সাতপারা, কাটপানা ডেজার্ট, খারপোচো দুর্গ) তাহলে ৩-৪ দিন যথেষ্ট। কিন্তু দেওসাই, শিগর, খাপলু, বাশো উপত্যকা ঘুরতে চাইলে ৭-১০ দিন লাগবে। দেওসাই ক্যাম্পিং করতে চাইলে আলাদা ২ দিন রাখুন।
স্কার্দু কি পরিবার নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরাপদ?
হ্যাঁ, স্কার্দু পরিবার আর বাচ্চাদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। অপরাধের হার খুবই কম। স্থানীয় মানুষ অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ আর সহায়ক। পর্যটন পুলিশ সক্রিয়। হোটেল-রিসোর্ট পরিবার বান্ধব।
স্কার্দুতে কি হালাল খাবার পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, পাকিস্তান মুসলিম দেশ হওয়ায় সব খাবারই হালাল। শুয়োরের মাংস একদমই নেই। মদ পাওয়া যায় না। বালটি খাবার মূলত ভেড়া, মুরগি, সবজি আর ডালের। নামাজের সুবিধা সব মসজিদে। হোটেলেও প্রার্থনা রুম আছে। মুসলিম ভ্রমণকারীরা নিশ্চিন্তে যেতে পারবেন।
ভারতীয় নাগরিকরা কি স্কার্দু যেতে পারবেন?
ভারতীয় নাগরিকরা পাকিস্তান ভিসা পেলে স্কার্দু যেতে পারবেন। তবে ভারত থেকে সরাসরি যাওয়া যায় না, বর্ডার বন্ধ। দুবাই, আবুধাবি বা অন্য তৃতীয় দেশ হয়ে ইসলামাবাদ গিয়ে তারপর স্কার্দু যেতে হবে।
স্কার্দুতে ইন্টারনেট সুবিধা কেমন?
স্কার্দু শহরে ইন্টারনেট মোটামুটি ভালো। ৩জি/৪জি নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। হোটেল-রিসোর্টে ওয়াই-ফাই আছে, যদিও স্পিড ধীর।
ফেসবুক: GoArif
